✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-২৮, | ২০:৫৪:৫১ |আইন শৃঙ্খলা গুরুতর লঙ্ঘনের অভিযোগে তদন্ত শুরুর সাত মাসের মাথায় চীনের প্রধান সামরিক সংস্থা থেকে শীর্ষস্থানীয় জেনারেল ঝাং ইউশিয়াকে অপসারণ করা হয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দেশটির পার্লামেন্টের স্থায়ী কমিটির বৈঠকের বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যানের পদ থেকে ঝাং ইউশিয়াকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঝাংয়ের সঙ্গে একই সময়ে তদন্তের মুখে পড়া আরেক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কর্মকর্তা লিউ ঝেনলিকেও অপসারণ করা হয়েছে।
২০০৭ সালে কমিউনিস্ট পার্টি অফ চায়নার কেন্দ্রীয় কমিটিতে যোগ দেওয়ার পর জেনারেল ঝাং ইউশিয়া চীনের রাজনৈতিক ও সামরিক কাঠামোর উচ্চতর পর্যায়ে ধাপে ধাপে উঠে আসেন। ২০১২ সালে তাকে দেশের সর্বোচ্চ সামরিক নীতিনির্ধারণী সংস্থা ‘সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশন’ (সিএমসি)-এর সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পাঁচ বছর পর তিনি ২৪ সদস্যের পলিটব্যুরোতে (যা দল ও কেন্দ্রীয় সরকারের কার্যক্রম তদারকি করে) অন্তর্ভুক্ত হন এবং সিএমসি-র দ্বিতীয় শীর্ষ ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান।
সাংবিধানিক পরিবর্তনের মাধ্যমে ২০২২ সালে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের তৃতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পরও ঝাং সিএমসি-তে তার পদ ধরে রাখেন এবং প্রথম ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে পদোন্নতি পান। ফলে তিনি চীনের সর্বোচ্চ পদমর্যাদার সামরিক কর্মকর্তা হয়ে ওঠেন। দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাকে অপসারণ করা হলেও, শি-র ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ঝাং তখন পর্যন্ত এই শুদ্ধি অভিযানের আওতামুক্ত ছিলেন বলে মনে করা হচ্ছিল।
তবে জানুয়ারি মাসে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। ওই সময় চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঝাং এবং সিএমসি-র আরেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সদস্য লিউ ঝেনলি শৃঙ্খলা ও আইন লঙ্ঘনের সন্দেহে অভিযুক্ত হয়েছেন। এটি একটি প্রচলিত পরিভাষা, যা চীনা কর্তৃপক্ষ সাধারণত দুর্নীতির ক্ষেত্রে ব্যবহার করে থাকে।
এই ঘোষণাটি প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং শাসনামলের ব্যাপক দুর্নীতিবিরোধী অভিযানেরই একটি অংশ ছিল। তবে ঝাংয়ের জ্যেষ্ঠতা এবং শি-র সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার কারণে বিষয়টি অনেকক পর্যবেক্ষকদের বিস্মিত করে।
সূত্র: এএফপি।