ঘিতে ভেজাল নিয়ে দুশ্চিন্তা এখন অনেকেরই। বাজারের ঘিতে আসল দুধের উপাদান কতটা আছে, কিংবা অন্য কোনো উপাদান মেশানো হয়েছে কি না— তা বাইরে থেকে বোঝা সবসময় সহজ নয়। বাজার থেকে ঘি কিনতে গেলে দাম ও মান— দুই দিকই ভাবতে হয়। তুলনামূলক কম দামের ঘি দেখলে অনেকের মনেই প্রশ্ন আসে, সেটি আসল কি না। তাই ঘির মান নিয়ে কমবেশি প্রায় সবাই চিন্তিত।
এই চিন্তার অবসান করতে পারেন নিজেই। মাত্র কয়েকটি সহজ ধাপে ঘরেই তৈরি করা যাবে খাঁটি ও সুগন্ধি গাওয়া ঘি।
যা লাগবে
- দুধের সর বা মালাই
- ঠান্ডা পানি বা বরফ
ধাপে ধাপে ঘি তৈরির পদ্ধতি
১. সর জমিয়ে রাখুন
প্রতিদিন দুধের ওপর জমা হওয়া সর পরিষ্কার পাত্রে তুলে ফ্রিজে রাখুন। কয়েক দিনের সর একসঙ্গে হলে ভালো পরিমাণ ঘি তৈরি করা যাবে।
২. সর থেকে মাখন তৈরি করুন
জমানো সর ভালোভাবে ঠান্ডা করে বরফসহ ব্লেন্ডারে নিন। চাইলে মথনযন্ত্র, ব্লেন্ডার বা হ্যান্ড ব্লেন্ডারও ব্যবহার করতে পারেন। এরপর প্রয়োজনমতো ঠান্ডা পানি দিয়ে মথতে বা ব্লেন্ড করতে থাকুন। কিছুক্ষণ পর সর থেকে ধীরে ধীরে মাখন আলাদা হয়ে আসবে।
৩. মাখন পরিষ্কার করুন
আলাদা হয়ে যাওয়া মাখন তুলে পরিষ্কার ঠান্ডা পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। প্রায় পাঁচ থেকে ছয়বার পানি বদলে ধুলে মাখনের সঙ্গে থাকা দুধের অংশ অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে যাবে।
৪. মাখন জ্বাল দিন
এবার মাখন একটি ভারী তলার পাত্রে নিয়ে কম আঁচে বসিয়ে দিন। প্রথমে মাখন গলে যাবে। এরপর ফেনা উঠবে এবং ধীরে ধীরে পানি শুকিয়ে আসবে।
৫. ঘি প্রস্তুত হয়েছে কি-না বুঝুন
পাত্রের নিচে দুধের কঠিন অংশ জমে হালকা বাদামি হয়ে আসবে। আর ওপরের তরল অংশ স্বচ্ছ সোনালি রঙ ধারণ করলে চুলা বন্ধ করে দিন।
৬. ছেঁকে সংরক্ষণ করুন
ঘি কিছুটা ঠান্ডা হলে পরিষ্কার ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে নিন। এরপর সম্পূর্ণ শুকনো কাচের বয়ামে ঢেলে সংরক্ষণ করুন।
মনে রাখবেন : ঘি তৈরির সময় আঁচ বেশি দেবেন না। অতিরিক্ত আঁচে দুধের অংশ পুড়ে গেলে ঘিতে পোড়া গন্ধ চলে আসতে পারে। পাশাপাশি ঘি রাখার পাত্র পরিষ্কার ও সম্পূর্ণ শুকনো হওয়া জরুরি।
বাজারের পণ্যের মান নিয়ে সন্দেহ থাকলে ঘরে তৈরি ঘি হতে পারে একটি বিকল্প। তবে দুধ বা মাখনের মান ভালো না হলে ঘির মানও ভালো হবে না। তাই ঘি তৈরির পাশাপাশি কাঁচামালের মানের দিকেও গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
এ জাতীয় আরো খবর..