✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-২৭, | ০১:১৮:৪৬ |দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক ডিন এলগার চলতি বছরের কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ মৌসুম শেষে পেশাদার ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। ৩৯ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার প্রোটিয়ার ব্যাটিং লাইনআপের শীর্ষে থেকে ১২ বছর কাটিয়েছেন।
৮৬টি টেস্টে ৩৭.৯২ গড়ে তিনি ৫,৩৪৭ রান করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ১৪টি সেঞ্চুরি এবং ২০১৭ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলা ১৯৯ রানের ইনিংসটি তার ক্যারিয়ার-সেরা। এলগার ১৮টি ম্যাচে প্রোটিয়াদের নেতৃত্বও দিয়েছেন। এর মধ্যে ছিল ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে কেপ টাউনে ভারতের বিপক্ষে তার শেষ টেস্টটি, যেখানে চোট পাওয়া টেম্বা বাভুমার পরিবর্তে তিনি আবারও অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
তবে দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট খেলার সুযোগ ক্রমশ কমে আসায় তিনি এসেক্সের হয়ে খেলার চুক্তি করেন। সেখানে গত তিন মৌসুমে তার দৃঢ়চেতা বাঁ-হাতি ব্যাটিং এবং টেস্ট ক্রিকেটে প্রমাণিত দক্ষতা তাকে অ্যালাস্টেয়ার কুকের আদর্শ উত্তরসূরি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। উল্লেখ্য, কুক ২০২৩ সালের শেষে অবসর নিয়েছিলেন।
অবসরের বিষয়ে এলগার বলেন, আমার মনে হয় এটাই এখন সঠিক সময়। বয়স তো আর কমছে না, ৩৯ বছর হয়ে গেছে। দেশে আমার পরিবার, সন্তানরা রয়েছে। তাদের নিয়ে কিছু সামলানোর বিষয় রয়েছে। এখন আমার জন্য সঠিক সময় হলো বাড়িতে থাকা এবং আমার সঙ্গী ও সন্তানদের পাশে থাকা। এখন পর্যন্ত যাত্রাটা দারুণ ছিল। যদিও এটি পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি, তবে মৌসুম শেষে আমি অবসর নেব।
২১ বছরের পেশাদার ক্যারিয়ারে এলগার ৫০০টিরও বেশি ম্যাচ খেলেছেন; এর মধ্যে সারে ও সমারসেটের হয়ে কাউন্টি ক্রিকেটে খেলার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। ২০০৬ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এরপর ফ্রি স্টেট ও নাইটস দলের হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজের অবস্থান শক্ত করেন এবং ২০১২ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটান।
এলগার বলেন, আমি ভাগ্যবান যে বারো বছর ধরে আমার দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরেছি এবং এরপর অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পেয়েছি। এটি আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম গর্বের মুহূর্ত। আমি কোথা থেকে উঠে এসেছি সেই যাত্রার দিকে তাকালে মনে হয় না খুব বেশি মানুষ আমার এমন ক্যারিয়ার গড়ার ব্যাপারে খুব একটা আশাবাদী ছিল; আর দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে খেলা চালিয়ে যাওয়ার কথা তো ভাবাই যায় না।
নিজের ক্যারিয়ারের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এলগার ২০২২ সালে লর্ডসে বেন স্টোকসের ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস ব্যবধানে জয়কে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আমার সময়ে অনেক গর্বের মুহূর্ত এসেছে। তবে অধিনায়ক হিসেবে লর্ডসে ইংল্যান্ডকে হারানো নিঃসন্দেহে তার মধ্যে অন্যতম। এটি আমার কাছে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
এসেক্সের ক্রিকেট পরিচালক ক্রিস সিলভারউড বলেন, এলগারের ক্যারিয়ার দীর্ঘস্থায়িত্ব, মানসিক দৃঢ়তা এবং ক্রিকেটের প্রতি গভীর নিষ্ঠার এক অনন্য উদাহরণ। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ক্যারিয়ারে একজন প্রবীণ ও অভিজ্ঞ ওপেনিং ব্যাটার হিসেবে তার খ্যাতি এসেক্সে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছিল। বিশেষ করে ক্লাবের তরুণ খেলোয়াড়দের গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তিনি বড় ভূমিকা রেখেছেন। একই সঙ্গে তিনি এলগারের অবসর পরবর্তী জীবনের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন।