✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-১২, | ১৩:২১:৩৫ |দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার পর মধ্যপ্রাচ্যে অবশেষে শান্তির সুবাতাস বইবার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তির সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠেছে। মঙ্গলবার ইসলামাবাদে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এখন শান্তির অনুকূলেই এগোচ্ছে।
মূলত কাতার ও পাকিস্তানের নিবিড় মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালিতে পুনরায় জাহাজ চলাচল শুরুর বিষয়ে ওমানের সঙ্গে ইরানের আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। এরই ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি বর্তমানে তেহরান সফর করছেন। তবে, ওমানের সঙ্গে চুক্তি হলেও প্রণালিটি এখনই পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে খোদ ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মহসেন রেজাই সংশয় প্রকাশ করেছেন।
শান্তির এই সম্ভাবনার মাঝেই সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার অবস্থান আরও কঠোর করেছেন। তিনি উল্টো ইরানের কাছে বিভিন্ন হামলায় নিহতদের ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। হোয়াইট হাউসের মতে, ট্রাম্প চুক্তির জন্য মোটেও তাড়াহুড়ো করছেন না।
বিপরীতে, ইরান যুদ্ধ বন্ধ এবং জব্দ করা সম্পদ ফেরত দেওয়াসহ পুরনো চুক্তি লঙ্ঘনের ক্ষতিপূরণ চাইছে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষক আলী বায়েজ মনে করেন, দুপক্ষের এই শর্তের বেড়াজালেই মূলত আটকে আছে সমঝোতা।
চুক্তির এই অনিশ্চয়তার প্রভাব পড়ছে বিশ্ব অর্থনীতিতেও। তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি সামরিক উত্তেজনাও অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার মার্কিন অবরোধ ভেঙে পালানোর সময় একটি পানামার জাহাজে গুলি চালিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী। এছাড়া ওমান উপসাগর, লোহিত সাগর থেকে শুরু করে লিবিয়া, রাশিয়া এবং সৌদি আরবের তেল শোধনাগারেও সম্প্রতি হামলার খবর পাওয়া গেছে।
সব মিলিয়ে এই অস্থির পরিস্থিতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক আনোয়ার গারগাশ সতর্ক করে বলেছেন, এই অঞ্চল অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধ বা শান্তির দোলাচলে ঝুলে থাকতে পারে না; বৃহত্তর স্বার্থেই এখানে স্থিতিশীলতা প্রয়োজন।