✕

সর্বশেষ :
জার্মানিতে বিপজ্জনক ছায়াযুদ্ধের শঙ্কা রাহুল গান্ধীর আবেদনে ১৪ ত্রুটি ধরল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বাংলাদেশ-ইউএই যৌথ উদ্যোগে কক্সবাজারে সুপেয় পানি প্রকল্পের প্রস্তাব দিলেন এলজিআরডি মন্ত্রী মেহেরপুরে বাসের ধাক্কায় ভ্যানচালক নিহত পাকিস্তান সিরিজে শ্রীলঙ্কার টেস্ট দল ঘোষণা, অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস আরব আমিরাতে শ্রমবাজার ও নতুন সুযোগের সম্ভাবনা নিয়ে মাহ্দী আমিন-রাষ্ট্রদূতের বৈঠক কুমিল্লায় সকালে হাঁটতে বেরিয়ে গাড়িচাপায় স্বামী ও স্ত্রী নিহত কাদের মির্জা ও তার স্ত্রী-ছেলের বিরুদ্ধে দুদকের ৩ মামলা অবিবাহিতদের সবচেয়ে বেশি রাগিয়ে দেয় যেসব কথা দুর্গাপূজায় নৌপথে নিরাপত্তায় ১৬ নির্দেশনা

১৬ বছর পর একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের তিন অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রস্তুতি

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-১২, | ১৪:৩২:৪৮ |

যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১৬ বছরের মধ্যে এই প্রথম একই দিনে তিন রাজ্যে তিন বন্দির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার একটি বিরল ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে। রাজ্য পরিচালনা ও আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী টেনেসি, অ্যালাবামা এবং ওকলাহোমা; এই তিন অঙ্গরাজ্যে একই দিনে বিষাক্ত ইনজেকশন প্রয়োগের মাধ্যমে এই মৃত্যুদণ্ডগুলো কার্যকরের সব ধরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। মূলত কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র কয়েকটি নির্দিষ্ট রাজ্যেই এই চরম দণ্ড প্রয়োগের প্রবণতা সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। 

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, একই দিনে তিন রাজ্যে পৃথক মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়াটা মূলত একটি প্রশাসনিক কাকতালীয় ঘটনা হলেও এটি যুক্তরাষ্ট্রের নির্দিষ্ট কয়েকটি রাজ্যের মৃত্যুদণ্ড বজায় রাখার ধারাবাহিক কঠোর মনোভাবকে স্পষ্ট করে তুলছে।

এর আগে ২০১০ সালের ৭ জানুয়ারি সর্বশেষ একক দিনে তিনটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে দেখেছিল যুক্তরাষ্ট্র, যা তৎকালীন সময়ে লুইজিয়ানা, ওহাইও এবং টেক্সাসে ঘটেছিল। পরবর্তীতে ২০১৮ সালেও একবার একইভাবে একই দিনে তিনটি মৃত্যুদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছিল, তবে এক আসামির স্থগিতাদেশ এবং অপর এক আসামির শরীরে ইনজেকশনের শিরা খুঁজে পেতে ব্যর্থ হওয়ায় শেষ পর্যন্ত কেবল একটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল। 

বিশেষজ্ঞদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র পাঁচ থেকে ছয়টি রাজ্য বর্তমানে নিয়মিতভাবে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিচ্ছে এবং তা কার্যকর করছে, যার মধ্যে এই তিন রাজ্যের ভূমিকা অন্যতম। বিগত বছরে সারা দেশে সর্বমোট ৪৭ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়, যার এক বিশাল অংশ সম্পন্ন হয়েছিল ফ্লোরিডা রাজ্যে। 

মৃত্যুদণ্ড পেতে যাওয়া এই তিন আসামির মামলা ও প্রেক্ষাপট অত্যন্ত জটিল এবং বৈচিত্র্যময়। টেনেসি রাজ্যে ৬৬ বছর বয়সী অ্যান্থনি ড্যারেল হাইন্সের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সিদ্ধান্তকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি মনোযোগ কাড়ছে। হাইন্স ১৯৮৫ সালে মোটেলের এক পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়ে দীর্ঘকাল মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের তালিকায় ছিলেন। এর আগে অন্য এক আসামির শরীরে বিষাক্ত ইনজেকশনের আইভি লাইন তৈরিতে চিকিৎসকদের ব্যর্থতার কারণে কার্যকারিতা স্থগিত রাখা হয়েছিল। ফলে হাইন্সের ক্ষেত্রেও প্রক্রিয়াটি কতটা ত্রুটিমুক্ত হবে তা নিয়ে নানামুখী বিতর্ক ও আইনি চ্যালেঞ্জ গড়ে ওঠে। হাইন্সের পক্ষ থেকে তার শারীরিক অসুস্থতা ও স্ট্রোকের কথা উল্লেখ করে রাজ্য গভর্নরের কাছে প্রাণভিক্ষা এবং স্থগিতাদেশ চাওয়া হলেও আদালত ও রাজ্য প্রশাসন শেষ পর্যন্ত সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে।

অন্যদিকে অ্যালাবামা অঙ্গরাজ্যে ৪২ বছর বয়সী জেরেমি উইলিয়ামসের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা রয়েছে, যিনি ২০২১ সালে এক ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও নির্মমভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত ছিলেন। উইলিয়ামস নিজেই তার আইনি আপিল প্রত্যাহার করে দ্রুত শাস্তি কার্যকরের আবেদন জানিয়েছেন। আবার ওকলাহোমাতে ৭০ বছর বয়সী কার্লোস কুয়েস্তা-রদ্রিগেজের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে যাচ্ছে। তিনি ২০০৩ সালে নিজের সঙ্গিনীকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে গুলি করে হত্যা করেছিলেন। প্যারোল বোর্ড ও আসামির আইনজীবীদের মানসিক অসুস্থতার যুক্তি সত্ত্বেও আসামি নিজে কোনো অনুকম্পা বা প্রাণভিক্ষা চাননি। 

সূত্র: এপি

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..