✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-১২, | ১৪:২৪:৩৮ |বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞ শেষ হওয়ার তিন সপ্তাহের মাথায় ইউরোপীয় ফুটবলে নতুন মৌসুমের প্রথম শিরোপার লড়াই। উয়েফা সুপার কাপের ফাইনালে আজ মুখোমুখি হচ্ছে চ্যাম্পিয়নস লিগজয়ী প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) ও ইউরোপা লিগের চ্যাম্পিয়ন অ্যাস্টন ভিলা। অস্ট্রিয়ার সলজবুর্গের রেড বুল এরেনায় বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত ১টায় শুরু হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই ম্যাচ।
একদিকে টানা দ্বিতীয়বার সুপার কাপ জয়ের হাতছানি পিএসজির সামনে, অন্যদিকে দীর্ঘ ৪৩ বছর পর এই প্রতিযোগিতায় ফিরেই ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন অ্যাস্টন ভিলার। ফলে নতুন মৌসুমের প্রথম ট্রফির লড়াইয়ে উত্তেজনার কমতি নেই।
শক্তি, সাম্প্রতিক সাফল্য ও অভিজ্ঞতার বিচারে অবশ্য কিছুটা এগিয়ে পিএসজি। গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের পাশাপাশি ঘরোয়া ফুটবলেও দাপট দেখিয়েছে ফরাসি জায়ান্টরা। গত সুপার কাপে টটেনহ্যামকে পেনাল্টি শুটআউটে হারিয়ে ট্রফি জেতার পর এবার তাদের লক্ষ্য টানা দ্বিতীয় শিরোপা।
জিততে পারলে উয়েফা সুপার কাপ টানা দুইবার জেতা চতুর্থ ক্লাব হিসেবে ইতিহাসে নাম লেখাবে পিএসজি। এর আগে আয়াক্স, এসি মিলান ও রিয়াল মাদ্রিদ এই কীর্তি গড়েছে। একই সঙ্গে কোচ লুইস এনরিকের ঝুলিতে যোগ হবে আরও একটি শিরোপা। কোচ হিসেবে এটি হবে তার ত্রয়োদশ ট্রফি।
অন্যদিকে অ্যাস্টন ভিলাকেও কোনোভাবেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। ইউরোপা লিগ জিতে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে থাকা ইংলিশ ক্লাবটি বড় মঞ্চে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করতে প্রস্তুত। ইতিহাসও তাদের অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে। ১৯৮৩ সালে প্রথমবার সুপার কাপে খেলেই বার্সেলোনাকে ৩-১ গোলে হারিয়েছিল ভিলা। ৪৩ বছর পর আবারও সেই মঞ্চে ফিরেছে তারা।
তবে সুপার কাপে কোচ উনাই এমেরির রেকর্ড পিএসজির জন্য আশাবাদের কারণ হতে পারে। এর আগে তিনবার এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে প্রতিবারই হারের স্বাদ পেয়েছেন তিনি। বিপরীতে লুইস এনরিকে নিজের খেলা দুটি সুপার কাপেই জয় পেয়েছেন।
সুপার কাপে অভিজ্ঞতার দিক থেকেও এগিয়ে পিএসজি। এটি তাদের তৃতীয় ফাইনাল। ১৯৯৭ সালে জুভেন্টাসের কাছে দুই লেগ মিলিয়ে ৯-২ গোলে হারের পর গত বছর টটেনহ্যামকে হারিয়ে প্রথমবার শিরোপা জেতে তারা। এবার সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই তাদের লক্ষ্য।
তবে অ্যাস্টন ভিলার জন্য ইতিহাস বদলে দেওয়ার সুযোগও থাকছে। এক ম্যাচের ফাইনালে বড় দলের বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্য দেখাতে পারলে ইংলিশ ক্লাবটি ইউরোপীয় ফুটবলে নতুন বার্তা দিতে পারবে।
মাঠের বাইরেও ম্যাচটি ঘিরে রয়েছে বিশেষ আগ্রহ। প্রথম সোমালি রেফারি হিসেবে ইউরোপের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই ম্যাচ পরিচালনা করবেন ওমর আর্তান। সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপেও ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছিলেন তিনি। নানা বিতর্কের পর এবার উয়েফা তাকে সুপার কাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে।
পিএসজির আক্রমণভাগ ও বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতা যেমন তাদের এগিয়ে রাখছে, তেমনি অ্যাস্টন ভিলার আত্মবিশ্বাস ও প্রতিপক্ষকে চমকে দেওয়ার সামর্থ্যও ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। তাই শেষ বাঁশি না বাজা পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা কঠিন- নতুন মৌসুমের প্রথম ইউরোপীয় ট্রফি উঠবে পিএসজির হাতে, নাকি চমক দেখাবে অ্যাস্টন ভিলা।