✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-০৫, | ১৮:৩০:২০ |আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন-ব্রাজিলের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। ব্রাজিলের নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে অনুমোদন না দেওয়ায় এবার পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত মারিয়া লুইসা রিবেরো ভিওত্তির ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ব্রাজিল যদি ব্রাজিলের মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনোনীত নতুন দূত ড্যানিয়েল পেরেজকে দ্রুত অনুমোদন দেয়, তবে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হতে পারে। অবশ্য ওই কূটনীতিককে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়নি এবং তাকে তাৎক্ষণিকভাবে দেশ ছাড়তেও বলা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের এই আকস্মিক পদক্ষেপকে কূটনৈতিক শিষ্টাচারের মারাত্মক লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ব্রাজিলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টের কার্যালয়। প্রেসিডেন্ট লুই ইনাসিও লুলা ডি সিলভার দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং আদর্শগত কারণে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের একটি পরিকল্পিত ও শত্রুভাবাপন্ন পদক্ষেপের অংশ।
অক্টোবর মাসে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সাধারণ নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগে দুই দেশের মধ্যে এই বিরোধ চরম রূপ নিল, যেখানে বামপন্থী বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুলা ডি সিলভার মুখোমুখি হচ্ছেন ডানপন্থী প্রার্থী ফ্ল্যাভিও বলসোনারো।
এর আগে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বৈঠকের জন্য দুই মার্কিন কর্মকর্তার ভিসার আবেদন নামঞ্জুর করেছিল ব্রাজিল। রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কায় তাদের ভিসা দেওয়া হয়নি বলে জানায় ব্রাজিলের কূটনৈতিক সূত্র। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে ওয়াশিংটন দাবি করে, তাদের প্রতিনিধিরা মূলত মুক্ত নির্বাচন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনার জন্য সফর করতে চেয়েছিলেন। ইলেকট্রনিক ভোটিং সিস্টেমের স্বচ্ছতা নিয়ে বিরোধী পক্ষের টানা সংশয় প্রকাশ এবং পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের এমন আক্রমণাত্মক কূটনৈতিক কৌশলে দুই দেশের সম্পর্ক এখন বহু বছরের মধ্যে সবচেয়ে স্পর্শকাতর পরিস্থিতিতে এসে ঠেকেছে।
সূত্র: গালফ নিউজ