✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-০২, | ১৫:৪৮:১৬ |বর্ষাকালে হঠাৎ বৃষ্টিতে স্মার্টফোন ভিজে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত হয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নিলে ফোনের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফোনে পানি ঢোকার পর প্রথম কয়েক মিনিটে নেওয়া পদক্ষেপই নির্ধারণ করে ডিভাইসটি সচল থাকবে কি না।
ফোন ভিজে গেলে প্রথমেই সেটি বন্ধ করে দিতে হবে। ভেজা অবস্থায় ফোন চালু রাখা বা ব্যবহার করলে শর্ট সার্কিটের ঝুঁকি বাড়ে। একইভাবে ফোনটি ঠিক আছে কি না পরীক্ষা করতে চার্জারে লাগানো থেকেও বিরত থাকতে হবে। সম্পূর্ণ শুকানোর আগে ফোনে চার্জ দেওয়া উচিত নয়।
অনেকে দ্রুত শুকানোর জন্য হেয়ার ড্রায়ারের গরম বাতাস ব্যবহার করেন। তবে অতিরিক্ত তাপে ফোনের ভেতরের সংবেদনশীল যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একই কারণে ফোন সরাসরি রোদেও রাখা ঠিক নয়। এতে ব্যাটারি ও ডিসপ্লের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।
ফোন ভিজে গেলে সেটি জোরে ঝাঁকানোও উচিত নয়। এতে ভেতরে থাকা পানি আরও গভীরে ছড়িয়ে যেতে পারে। পরিবর্তে নরম ও শুকনো কাপড় দিয়ে ফোনের বাইরের অংশ মুছে নিতে হবে। চার্জিং পোর্ট বা স্পিকারে পানি থাকলে ফোনটি নিচের দিকে কাত করে আলতোভাবে ধরে পানি বের হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া যেতে পারে। এরপর বাতাস চলাচল করে এমন শুকনো স্থানে কয়েক ঘণ্টা রেখে দিতে হবে। সম্ভব হলে সিম ট্রে খুলে রাখলে ভেতরের আর্দ্রতা দ্রুত বের হতে পারে।
ফোন যদি ওয়াটার রেজিস্ট্যান্ট না হয়, চালু না হয়, পর্দায় দাগ দেখা যায় বা স্পিকারের শব্দ বিকৃত শোনায়, তাহলে দ্রুত অনুমোদিত সার্ভিস সেন্টারে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
বর্ষাকালে বাইরে বের হওয়ার সময় ওয়াটারপ্রুফ মোবাইল পাউচ, জিপ-লক ব্যাগ বা ব্যাগের ভেতরে আলাদা সুরক্ষিত পকেটে ফোন রাখলে বৃষ্টির পানি থেকে সহজেই সুরক্ষা পাওয়া যায়।
ভেজা ফোন চালের মধ্যে রেখে শুকানোর প্রচলিত পরামর্শকে নির্ভরযোগ্য মনে করেন না বিশেষজ্ঞরা। অ্যাপলের পরামর্শ অনুযায়ী, এতে চালের গুঁড়া ফোনের ভেতরে ঢুকে ক্ষতির কারণ হতে পারে। এর পরিবর্তে সিলিকা জেল ব্যবহার করা যেতে পারে, যা আর্দ্রতা শোষণে তুলনামূলক কার্যকর।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ফোন ভিজে গেলে আতঙ্কিত না হয়ে সেটি বন্ধ করুন, শুকনো কাপড়ে মুছে বাতাস চলাচল করে এমন স্থানে রাখুন এবং সম্পূর্ণ শুকানোর আগে কোনোভাবেই চার্জে দেবেন না। এই কয়েকটি সতর্কতা মেনে চললে অনেক ক্ষেত্রেই স্মার্টফোনকে বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব।