একজনের বয়স ৩৯, অন্যজন মাত্র ২৭। একজন খেলছেন যুক্তরাষ্ট্রের এমএলএসে, অন্যজন ইউরোপের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লিগ লা লিগায়। তবু ২০২৫–২৬ মৌসুম শেষে পরিসংখ্যানের খাতায় আবারও মুখোমুখি লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে। গোল, অ্যাসিস্ট, ড্রিবল কিংবা দলীয় অর্জন; সবকিছু মিলিয়ে ২০২৫–২৬ মৌসুমে কে এগিয়ে ছিলেন? সেই বিশ্লেষণই প্রকাশ করেছে স্প্যানিশ দৈনিক মার্কা।
২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পের তুলনা। তবে এই বিতর্ক শুধু বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সে সীমাবদ্ধ নয়; পুরো ২০২৫–২৬ মৌসুমের পরিসংখ্যানই দুই প্রজন্মের দুই সেরা তারকাকে আবারও তুলনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
অবশ্য এই তুলনায় যাওয়ার আগে কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। মেসি খেলছেন মেজর লিগ সকারে (এমএলএস), আর এমবাপ্পে লা লিগায়। প্রতিযোগিতার মান, বয়স, দল এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশেও স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। তবু মৌসুমজুড়ে দুজনের পারফরম্যান্সই ছিল অসাধারণ।
৩৯ বছর বয়সেও মেসি দেখিয়ে দিয়েছেন, বিশ্ব ফুটবলের সবুজ গালিচায় তার প্রভাব এখনো অটুট। অন্যদিকে ২৭ বছর বয়সী এমবাপ্পে কাটিয়েছেন দুর্দান্ত এক গোলবৃষ্টির মৌসুম। তবে শুধু গোল নয়, সামগ্রিক অবদানের দিক থেকেও মেসি ছিলেন অনন্য কিংবা অনবদ্য।
পরিসংখ্যান বলছে দলীয় সাফল্যের বিচারে এগিয়ে আর্জেন্টাইন মহাতারকা। তার নেতৃত্বে ইন্টার মায়ামি ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এমএসএল শিরোপা জেতে। একই সঙ্গে আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে তুললেও শেষ পর্যন্ত রানার্সআপ হয় আলবিসেলেস্তেরা।
ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানে গোলের হিসাবে অবশ্য এগিয়ে এমবাপ্পে। ৬০ ম্যাচে করেছেন ৫৮ গোল, যার মধ্যে পেনাল্টি ছাড়া গোল ৪৩টি। সঙ্গে আছে ১৩টি অ্যাসিস্ট ও ১৩৬টি সফল ড্রিবল। লা লিগা, উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এবং ২০২৬ বিশ্বকাপ; তিন প্রতিযোগিতাতেই সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন ফরাসি এই ফরোয়ার্ড।
অন্যদিকে মেসি ৪৯ ম্যাচে করেছেন ৪৫ গোল, যার মধ্যে পেনাল্টি ছাড়া ৪১টি। তবে গোল করানোর ক্ষেত্রে মেসি ছিলেন অনেক এগিয়ে। সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন ৩০টি গোল এবং সফল ড্রিবল করেছেন ১১৭টি। পারফরম্যান্স রেটিংয়েও এমবাপ্পেকে ছাড়িয়ে গেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। মেসির গড় রেটিং ৮.৫৫, যেখানে এমবাপ্পের ৭.৭৫।
বিশ্বকাপেও ইতিহাস গড়েছেন দুজনই। জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ভেঙে ফেলেন তারা। মেসি বিশ্বকাপ ক্যারিয়ার শেষ করেন ২১ গোল নিয়ে, যার মধ্যে ২০২৬ আসরে করেন ৮টি। আর এমবাপ্পে ২২ গোল নিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন। এবারের আসরেও ১০ গোল করে জেতেন গোল্ডেন বুট।
বিশ্বকাপ শেষে মেসি আবার ইন্টার মায়ামির হয়ে মাঠে নামবেন এবং টানা দ্বিতীয় এমএলএস শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে খেলবেন। অন্যদিকে এমবাপ্পের সামনে অপেক্ষা করছে নতুন অধ্যায়। রিয়াল মাদ্রিদে নতুন কোচ জোসে মরিনহোর অধীনে এবং ফ্রান্সে জিনেদিন জিদানের নেতৃত্বে নতুন যাত্রা শুরু করবেন তিনি। লক্ষ্য থাকবে, শিরোপাহীন একটি মৌসুমের হতাশা কাটিয়ে নতুন সাফল্যের পথে ফেরা।
এ জাতীয় আরো খবর..