✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-৩০, | ১৩:১০:১০ |তিনি যেন আসল ফিনিক্স। আগুনের ভস্ম থেকে তিনি জন্মেছেন নতুন করে। ২০১০ সালের সেই ভয়াল ভূমিকম্পের কথা বিশ্ববাসী হয়তো এখনও ভোলেনি, যা মুহূর্তে লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছিল ক্যারিবীয় দ্বীপদেশ হাইতিকে। তিন লক্ষাধিক মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়া সেই প্রলয়ঙ্করী দুর্যোগের অলৌকিক এক বেঁচে যাওয়া শিশুর নাম স্টিফেন রামোস; যাকে সবাই ভালোবেসে ডাকে 'কিকে' নামে।
মাত্র নয় মাস বয়সে সেই ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে রক্ষা পেয়ে এক আর্জেন্টাইন দম্পতির দত্তক সন্তান হিসেবে বুয়েনস আইরেসে পা রেখেছিলেন কিকে। এরপর কেটে গেছে দেড় দশক। সেই অবুঝ শিশুটিই আজ বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি আর্জেন্টিনার অনুর্ধ-১৭ জাতীয় দলের নীল-সাদা জার্সি গায়ে চাপিয়ে ফুটবল বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করছেন।
সম্প্রতি বুয়েনস আইরেসে ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে এক প্রীতি ম্যাচে ২-১ গোলের জয় পায় আর্জেন্টিনা অনুর্ধ-১৭ দল। এই ম্যাচটি আলবিসেলেস্তেদের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে কিকে রামোসের জাতীয় দলের জার্সি গায়ে অভিষেক ঘটার কারণে। ভেলেজ সার্সফিল্ডের এই প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ ফরোয়ার্ড মাঠে নামার পর থেকেই তার শারীরিক উপস্থিতি, দুর্দান্ত গতি এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভেঙে গোল করার অসাধারণ ক্ষমতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। আর্জেন্টিনার যুব ফুটবলে অসাধারণ পারফরম্যান্সের সুবাদেই অনূর্ধ্ব-১৭ দলের কোচ দিয়েগো প্লাসেন্তোর নজরে আসেন ২০০৯ সালের এপ্রিলে জন্ম নেওয়া এই বিস্ময় বালক।
আসন্ন ২০২৬ সালে কাতারে বসতে যাওয়া অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপের জন্য জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে আর্জেন্টিনা। এই মেগা টুর্নামেন্টে 'সি' গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া, ডেনমার্ক ও মোজাম্বিক। যদি কাতার বিশ্বকাপে কিকে রামোস শেষ পর্যন্ত মূল দলে জায়গা করে নেন, তবে তা এক নতুন ইতিহাস তৈরি করবে। ১৯৭৩ সালে প্যারাগুয়েতে জন্ম নেওয়া এলিসিয়ানো এরিবের্তো কোরিয়ার পর গত ৫৩ বছরে রামোসই হবেন প্রথম কোনো বিদেশি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়, যিনি আর্জেন্টিনার হয়ে অফিশিয়াল কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলবেন।
কাকতালীয়ভাবে, পাঁচ দশক আগের সেই প্যারাগুয়ে তারকা কোরিয়া এবং আজকের কিকে রামোস; উভয়েই জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার সময় ভেলেজ সার্সফিল্ড ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করছিলেন। ধ্বংসস্তূপ থেকে শুরু হওয়া এক শিশুর এই অবিশ্বাস্য পথচলা আজ শুধু ফুটবল প্রেমীদেরই নয় অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে বিশ্বজোড়া অগণিত মানুষকে।
সূত্র: মার্কা