ইউক্রেনে রুশ হামলায় শিশুসহ নিহত ৮

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-৩০, | ১২:৫৪:৫৪ |

ইউক্রেনের একাধিক শহরে রাশিয়ার ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দুই শিশুসহ অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে দেশটির বিভিন্ন স্থানে এই সমন্বিত হামলা চালানো হয়। এর ঠিক এক দিন আগেই দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন, রাশিয়া একটি ‘বিশাল ও ভয়াবহ হামলার’ প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি দেশের জনগণকে বিমান হামলার সাইরেন শোনামাত্রই নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জোর তাগিদ দিয়েছিলেন। 

প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সেই আশঙ্কার পরপরই দেশটির রাজধানী কিয়েভসহ একাধিক অঞ্চলে এই ট্র্যাজেডি নেমে আসে। চলতি সপ্তাহেই ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করে ইউক্রেনে ‘প্যাট্রিয়ট’ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের লাইসেন্স দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন জেলেনস্কি। সেই কূটনৈতিক আলোচনার পরপরই রাশিয়া এই নজিরবিহীন হামলা চালাল।

হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে মধ্য ইউক্রেনের ক্রাইভি রিগ শহরের নিকটবর্তী একটি গ্রামে। স্থানীয় একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি একটি আবাসিক বাড়িতে এসে আঘাত হানলে ঘটনাস্থলেই দুই কন্যাশিশু নিহত হয়, যাদের বয়স যথাক্রমে ৫ এবং ১২ বছর। ওই এক গ্রামেই মোট ছয়জন প্রাণ হারিয়েছেন। এ ঘটনায় দুই শিশুসহ আরও আটজন গুরুতর আহত হয়েছেন। উদ্ধারকাজ চলমান থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ওই কর্মকর্তা। হামলার সময় আতঙ্কে হাজার হাজার কিয়েভবাসীকে ভূগর্ভস্থ মেট্রো স্টেশনে আশ্রয় নিতে দেখা গেছে।

রাজধানী কিয়েভ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শহরেও রাতভর এই তাণ্ডব চালানো হয়েছে। কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো নিজের অফিশিয়াল টেলিগ্রাম চ্যানেলে জানিয়েছেন, রাত্রিকালীন হামলায় শহরে একজন প্রাণ হারিয়েছেন এবং অন্তত তিনটি অ-আবাসিক ভবনে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া পোলতাভা শহরের মেয়র জানিয়েছেন, তাদের এলাকায় ‘নোভা পোশতা’ নামক একটি ডাক বিভাগে রুশ হামলার পর একজনের মৃত্যু হয়েছে। বিবিসি ইউক্রেনের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার ছোড়া হাইপারসনিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো পশ্চিম ইউক্রেন পর্যন্ত পৌঁছে যায়।

পশ্চিম ইউক্রেনের ঐতিহাসিক লভিভ শহরেও ব্যাপক বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। শহরের মেয়র আন্দ্রি সাদোভি জানান, রুশ হামলায় একাধিক আবাসিক ভবন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক মানুষ ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে উদ্ধারকর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় সাধারণ বাসিন্দারাও হাত মিলিয়েছেন। ইউক্রেন সীমান্তবর্তী অঞ্চলে রুশ হামলার এই তীব্রতা দেখে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আকাশে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে প্রতিবেশী দেশ পোল্যান্ড। পোলিশ সশস্ত্র বাহিনী সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ পোস্ট করে এই পদক্ষেপের কথা নিশ্চিত করেছে।

অন্যদিকে ইউক্রেনের অভ্যন্তরে হামলার পাশাপাশি রাশিয়াতেও একটি পাল্টা আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। রাশিয়ার পেনজা শহরের আঞ্চলিক গভর্নর ওলেগ মেলনিচেঙ্কো টেলিগ্রামে নিশ্চিত করেছেন যে, রাতভর তাদের একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের গুদামে হামলা চালানো হয়েছে। রাশিয়ার জনপ্রিয় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ‘ওয়াইল্ডবেরিজ’—যাকে প্রায়ই ‘রাশিয়ার অ্যামাজন’ বলা হয়ে থাকে—তার একটি কেন্দ্রে এই হামলায় একজন আহত হয়েছেন। 

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়াভিত্তিক ওয়াইল্ডবেরিজের বিভিন্ন স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে আসছে।

পরপর এসব হামলায় ইউক্রেনের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষার দুর্বলতা আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। হামলার ঠিক আগের দিনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি বার্তা দিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। তিনি লিখেছেন, মানুষের জীবন রক্ষা করা সরাসরি নির্ভর করছে বিমান প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করার সদিচ্ছা বা অনিচ্ছার ওপর। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাশিয়ার ছোড়া মারাত্মক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে আকাশে ধ্বংস করতে সক্ষম হাতে গোনা কয়েকটি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মধ্যে কেবল মার্কিন ‘প্যাট্রিয়ট’ সিস্টেমই অন্যতম। কিন্তু এর পর্যাপ্ত সরবরাহের অভাবে ইউক্রেনীয়দের প্রাণ দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন জেলেনস্কি।

সূত্র: বিবিসি

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..