✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-৩০, | ১২:৩৯:৪১ |বিশ্বের বিভিন্ন যুদ্ধকবলিত ও বিতর্কিত সামুদ্রিক অঞ্চলে শত্রুভাবাপন্ন ছোট জলযান ও আকাশপথের হুমকি কম খরচে রুখে দিতে ড্রোনবাহী বিশেষ রোবট বোট তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। বহুল ব্যয়বহুল নৌ ও বিমান বাহিনীর যুদ্ধজাহাজের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দ্রুত দূরবর্তী স্থানে মোতায়েনযোগ্য স্বায়ত্তশাসিত এই যান তৈরির মাধ্যমে নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে চায় ওয়াশিংটন। মিলিটারি টাইমসের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে পেন্টাগনের এই নতুন কৌশলগত পরিকল্পনার কথা।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার’ এমন কিছু সারফেস ভেসেল বা ড্রোন বোট চেয়ে সম্প্রতি একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে, যা অন্তত দুটি ছোট অ্যাটাক ড্রোন বহন ও উৎক্ষেপণ করতে পারবে। 'সুইটেবল ওয়ারফাইটিং অ্যাডাপ্টিভ পেলোডস ফর আনম্যানড সারফেস ভেসেলস' (সোয়াপ-ইউএসভি) নামের এই বিশেষ প্রকল্পটি তদারকি করছে মার্কিন ডিফেন্স ইনোভেশন ইউনিট (ডিআইইউ)। তাদের দেওয়া তথ্য মতে, বাজারজাতকরণের জন্য প্রস্তুত এবং প্রযুক্তিগতভাবে পরিপক্ব এমন ড্রোন বোট ও ড্রোনের সুসংহত সমন্বয় চাওয়া হয়েছে, যা শত্রুভাবাপন্ন হুমকি শনাক্ত, চিহ্নিতকরণ এবং তা ধ্বংস করতে সক্ষম হবে। আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে তাদের প্রস্তাব জমা দেয়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
মূলত প্রচলিত ও ব্যয়বহুল সামুদ্রিক অস্ত্রব্যবস্থার বিপরীতে কম খরচে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই পেন্টাগনের এই প্রয়াস। বর্তমানে ড্রোন কিংবা দ্রুতগতির ছোট বোটের মতো সস্তা হুমকি মোকাবিলায় কোটি কোটি ডলারের যুদ্ধজাহাজ ব্যবহার করাকে মার্কিন বাহিনীর জন্য বেশ লোকসান হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ফলে এই প্রকল্পের অধীনে থাকা বোটের ড্রোনগুলো নজরদারি, যোগাযোগের তথ্য আদান-প্রদান, ইলেকট্রনিক ওয়্যারফেয়ার এবং স্থাবর বা অস্থাবর লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত হামলার কাজে ব্যবহার করা হবে। এতে পুনঃব্যবহারযোগ্য এবং একমুখী অ্যাটাক ড্রোন; উভয় ধরনের ব্যবস্থার কথাই ভাবছে পেন্টাগন, যা উপকূলীয় এলাকা থেকে শুরু করে নদী কিংবা উন্মুক্ত সমুদ্রে সমানভাবে কার্যকর হবে।
সহজে পরিবহনের বিষয়টি বিবেচনা করে পুরো ব্যবস্থাটি সাধারণ কার্গো কনটেইনার, ট্রেইলার কিংবা সি-সেভেন্টিন ও সি-ওয়ান থার্টি সামরিক বিমানে বহনের উপযোগী করে তৈরির শর্ত দেওয়া হয়েছে। কেবল নজরদারিই নয়, সন্দেহজনক জলযান স্বায়ত্তশাসিতভাবে শনাক্ত ও তার পিছু ধাওয়া করার সক্ষমতাও থাকবে এসব আধুনিক ড্রোনে। পুরো প্রকল্পটি তিন ধাপে এক বছরের ব্যবধানে আয়োজিত ১০০ মিলিয়ন ডলারের একটি প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে। পরবর্তীতে সফল পরীক্ষা পেরোনো প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আরও ২০০ মিলিয়ন ডলারের সংগ্রহ চুক্তির সুযোগ রাখা হয়েছে। চলতি ২০২৬ সালের শেষের দিকে শুরু হয়ে ২০২৭ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত চলবে এই রোবট বোট প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষা।
সূত্র: আল মায়াদিন