✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-২৯, | ১৪:১০:০৭ |মহাবিশ্বের অসীম গহিনে লুকিয়ে থাকা রহস্যময় অনেক দৃশ্যই মাঝেমধ্যে পৃথিবীর শক্তিশালী টেলিস্কোপগুলোর চোখ এড়িয়ে যায়। বিশেষ করে উজ্জ্বল তারার আড়ালে লুকিয়ে থাকা আবছা নক্ষত্রগুলোকে খুঁজে বের করা এক প্রকার অসম্ভবই বলা চলে। তবে সম্প্রতি নতুন প্রযুক্তির সাহায্যে আমাদের সৌরজগতের খুব কাছে লুকিয়ে থাকা চারটি নতুন শ্বেত বামন নক্ষত্র (হোয়াইট ডোয়ার্ফ) শনাক্ত করেছেন বিজ্ঞানীরা। জানা গেছে, তাদের সঙ্গী 'রেড ডোয়ার্ফ' বা লাল বামন নক্ষত্রের তীব্র আলোর কারণেই এতদিন এগুলোকে দেখতে পাওয়া যায়নি।
অক্সফোর্ড একাডেমিতে প্রকাশিত গবেষণা তথ্য অনুযায়ী, এই নক্ষত্রগুলো জি ২০৩–৪৭, জিজে ২০৭.১, এলএইচএস ১৮১৭ ও উলফ ১১৩০ নামের চারটি দ্বৈত বা বাইনারি স্টার সিস্টেমে অবস্থিত, যেখানে প্রতিটি শ্বেত বামন নক্ষত্র তার সঙ্গী লাল বামন নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করছে। বিজ্ঞানীরা হাবল স্পেস টেলিস্কোপের স্পেস টেলিস্কোপ ইমেজিং স্পেকট্রোগ্রাফের সাহায্যে অতিবেগুনি রশ্মি পর্যবেক্ষণ করে এসব শ্বেত বামনের তীব্র আলো পৃথক করতে সক্ষম হয়েছেন। কারণ শ্বেত বামনগুলো তাদের সঙ্গীর তুলনায় অনেক বেশি অতিবেগুনি রশ্মি নির্গমন করে থাকে।
গবেষকদের মতে, এই চার নক্ষত্রের তাপমাত্রা ৫ হাজার ৩০০ থেকে ৬ হাজার ৩০০ কেলভিনের মধ্যে। এগুলো তুলনামূলক শীতল হওয়ায় সাধারণ পদ্ধতিতে শনাক্ত করা বেশ কঠিন ছিল। কেবল দৃশ্যমান আলো দিয়ে পরীক্ষা করলে এদের তাপমাত্রা বাস্তবতার চেয়ে ৫ থেকে ৮ শতাংশ বেশি মনে হতে পারে।
বিজ্ঞানের এই নতুন আবিষ্কারের একটি বড় বড় চমক হলো জি ২০৩–৪৭ নক্ষত্রটি। এটি পৃথিবী থেকে মাত্র ৭ দশমিক ৬ পারসেক দূরে অবস্থিত। গত দুই দশক ধরে এখানে শ্বেত বামনের উপস্থিতি নিয়ে সন্দেহ থাকলেও এবারই প্রথম তার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মিলল। এর মাধ্যমে এটি আমাদের সৌরজগতের সবচেয়ে কাছের শ্বেত বামন নক্ষত্রগুলোর তালিকায় নবম স্থানে জায়গা করে নিয়েছে। মহাকাশবিজ্ঞানীদের ধারণা, আশপাশের লাল বামন নক্ষত্রগুলোতে আবারও অনুসন্ধান চালালে এই অঞ্চলে অন্তত আরও নয় থেকে দশটি লুকিয়ে থাকা নক্ষত্র খুঁজে পাওয়া যেতে পারে।