✕

সর্বশেষ :
জার্মানিতে বিপজ্জনক ছায়াযুদ্ধের শঙ্কা রাহুল গান্ধীর আবেদনে ১৪ ত্রুটি ধরল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বাংলাদেশ-ইউএই যৌথ উদ্যোগে কক্সবাজারে সুপেয় পানি প্রকল্পের প্রস্তাব দিলেন এলজিআরডি মন্ত্রী মেহেরপুরে বাসের ধাক্কায় ভ্যানচালক নিহত পাকিস্তান সিরিজে শ্রীলঙ্কার টেস্ট দল ঘোষণা, অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস আরব আমিরাতে শ্রমবাজার ও নতুন সুযোগের সম্ভাবনা নিয়ে মাহ্দী আমিন-রাষ্ট্রদূতের বৈঠক কুমিল্লায় সকালে হাঁটতে বেরিয়ে গাড়িচাপায় স্বামী ও স্ত্রী নিহত কাদের মির্জা ও তার স্ত্রী-ছেলের বিরুদ্ধে দুদকের ৩ মামলা অবিবাহিতদের সবচেয়ে বেশি রাগিয়ে দেয় যেসব কথা দুর্গাপূজায় নৌপথে নিরাপত্তায় ১৬ নির্দেশনা

হরমুজ কৌশল শেষ পর্যন্ত তেহরানের জন্যই বড় পরাজয় ডেকে আনবে?

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-২৮, | ১৯:৫৪:৫০ |

হরমুজ প্রণালিতে সংঘাত বৃদ্ধি এবং প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর হামলা চলমান রাখায় ইরান শেষ পর্যন্ত বড় ধরণের কৌশলগত ভুলের দিকে এগোচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত ও কূটনৈতিক বিশ্লেষক রঘু গুরুরাজ। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানোর পর তেহরান পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালায় এবং কুয়েতের জ্বালানি ও পানি শোধনাগারে আঘাত হানে। এর ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক করিডোর ঘিরে চলা সংঘাত এখন চরম রূপ ধারণ করেছে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধক্ষেত্রের জয়-পরাজয় যাই হোক না কেন, এই যুদ্ধের অর্থনৈতিক ক্ষতি দীর্ঘস্থায়ী হবে। তেহরান যদি ধরেও নেয় যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র এই সামরিক সংঘাতের সূচনা করেছে, তবুও সংঘাতের পরিধি উপসাগরীয় দেশগুলোতে বিস্তৃত করে ইরান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। ইরান তার ভৌগোলিক অবস্থান পরিবর্তন করতে পারবে না, ফলে সংঘাত শেষ হলেও তাকে এসব প্রতিবেশী দেশের পাশেই অবস্থান করতে হবে, যাদের আস্থা সে এখন দ্রুত হারাচ্ছে। চীন ও অন্যান্য মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টায় সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে ইরান যে বহুল কাঙ্ক্ষিত কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করেছিল, বর্তমান উত্তেজনার ফলে বহু বছরের সেই সুফল হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

অর্থনৈতিক দিক থেকেও দীর্ঘমেয়াদি এই যুদ্ধ টিকিয়ে রাখা ইরানের জন্য প্রায় অসম্ভব। বছরের পর বছর ধরে চলা নিষেধাজ্ঞা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, মুদ্রার অবমূল্যায়ন এবং যুব বেকারত্বে জর্জরিত দেশটির অর্থনীতি এমনিতেই একটি ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিটি নতুন সংকট বিদেশি বিনিয়োগ আটকে দিচ্ছে এবং অর্থনৈতিক ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনাকে পিছিয়ে দিচ্ছে।

অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করা বা অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার কৌশলটি তেহরানের জন্য উল্টো ফল বয়ে আনছে। ইরানের এই হুমকির মুখে পড়ে উপসাগরীয় দেশগুলো এবং আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো ইতিমধ্যেই বিকল্প বাণিজ্যিক পথ তৈরিতে মনোযোগ দিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা গভীর সমুদ্র বন্দর ও নতুন পাইপলাইন, ইরাক-জর্ডান পাইপলাইন প্রকল্প এবং ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডোরের মতো উদ্যোগগুলো হরমুজের ওপর বিশ্ব অর্থনীতির দীর্ঘদিনের নির্ভরশীলতা কমিয়ে দেবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় একবার বিকল্প পথ পেয়ে গেলে তেহরানের দরকষাকষির মূল হাতিয়ারটিই আর কার্যকর থাকবে না।

ভারতীয় ওই বিশ্লেষক মনে করেন, যুদ্ধপরবর্তী সময়ে ইরানের কূটনৈতিক মিত্রের পরিধিও মারাত্মকভাবে সংকুচিত হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও ইসরায়েল ইরানের বিরোধিতা চালিয়ে যাবে, যার ফলে তেহরানকে জ্বালানি ও বিনিয়োগের জন্য চীন এবং সামরিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তার জন্য সম্পূর্ণভাবে রাশিয়ার ওপর নির্ভর করতে হবে। এই অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা ইরানের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার সার্বভৌমত্বকে সংকুচিত করবে।

সূত্র: ইউরোএশিয়ান টাইমস

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..