জব্দ সম্পদ ইস্যুতে হরমুজ নিয়ে নতুন হুঁশিয়ারি ইরানের

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-২৮, | ২০:০৮:৫৫ |

জব্দ করে রাখা ইরানের সম্পদ ব্যবহার করলে সংশ্লিষ্ট দেশ বা কোম্পানিকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করতে দেওয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর ইরান এই সতর্কবার্তা দিয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বিত কমান্ড খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স এক বিবৃতিতে জানায়, “যেসব দেশ বা কোম্পানি ট্রাম্পের প্রস্তাবকে স্বাগত জানাবে এবং ইরানের অবরুদ্ধ (জব্দ) সম্পদ ব্যবহার করবে, তাদের হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করতে দেওয়া হবে না।”

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরানের সম্পদ অন্যের স্বার্থে ব্যবহারের যেকোনও প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল এবং এর পরিণতির দায় সংশ্লিষ্ট পক্ষকেই বহন করতে হবে।

ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘উসকানিমূলক’ বলছে তেহরান
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ ও পণ্যবাহী কার্গোর কোনও ক্ষয়ক্ষতি হলে তার ক্ষতিপূরণ ইরানের জব্দ সম্পদ থেকে আদায় করা হবে।

ট্রাম্পের এই প্রস্তাবকে ‘উসকানিমূলক’ আখ্যা দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান করে ইরান। তেহরানের দাবি, অন্য দেশে আটকে রাখা ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহার করার কোনও আইনি ভিত্তি নেই।

অবৈধ পদক্ষেপ
খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের এই হুমকি আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী।

বিবৃতিতে বলা হয়, “ইরানের জব্দ সম্পদ ব্যবহারের যেকোনও প্রচেষ্টা একটি অবৈধ পদক্ষেপ এবং এর জবাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন করা হয়। ফলে এই প্রণালীকে ঘিরে যেকোনও উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সর্বশেষ এই হুঁশিয়ারি বাস্তবায়িত হলে উপসাগরীয় অঞ্চলে নৌ চলাচল, জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..