বিশ্বজুড়ে দ্রুত বাড়ছে শহরমুখী মানুষের সংখ্যা। উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, কর্মসংস্থান, উন্নত অবকাঠামো ও জীবনযাত্রার সুবিধার কারণে নগরজীবনের প্রতি মানুষের আগ্রহও বাড়ছে। এমন বাস্তবতায় ২০২৬ সালের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বাসযোগ্য শহরের তালিকা প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সাময়িকী মনোকল।
জরিপে বিশ্বের ৭৫টি শহর মূল্যায়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে শীর্ষ ২০-এ জায়গা পেয়েছে ইউরোপের ১৩টি শহর। তালিকায় ইউরোপের সবচেয়ে বাসযোগ্য শহর হিসেবে রয়েছে ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেন। এরপরই রয়েছে পর্তুগালের লিসবন। অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনা ইউরোপে তৃতীয় এবং বিশ্বে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে।
এই তালিকা তৈরিতে শুধু অর্থনীতি, করহার বা জীবনযাত্রার ব্যয় নয়; বরং নিরাপত্তা, যোগাযোগব্যবস্থা, সবুজ পরিবেশ, কেনাকাটার সুযোগ, জনসেবা ও সামগ্রিক জীবনমানকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
কোপেনহেগেন শহরটি উন্নত সাইকেলপথ, প্রাণবন্ত রেস্তোরাঁ সংস্কৃতি এবং শহরের কেন্দ্রজুড়ে বৈচিত্র্যময় কেনাকাটার সুযোগের জন্য বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। ২০২৫ সালের স্থানীয় নির্বাচনের পর নতুন সিটি কাউন্সিল আবাসন সংকট মোকাবিলা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং শহরের কেন্দ্র থেকে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এর আগে ২০২১ ও ২০২২ সালেও বিশ্বের সবচেয়ে বাসযোগ্য শহরের স্বীকৃতি পেয়েছিল কোপেনহেগেন।
দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা লিসবনকে প্রশংসা করা হয়েছে বছরের অধিকাংশ সময় রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া, সমৃদ্ধ খাবার সংস্কৃতি, ঐতিহাসিক স্থাপত্য, নিরাপত্তা এবং স্বাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য। একই সঙ্গে আটলান্টিক ও আফ্রিকাগামী ভ্রমণকারীদের জন্য শহরটির বিমানবন্দর একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবেও বিবেচিত হয়েছে। তবে জরিপে সতর্ক করা হয়েছে, লিসবনে বাড়ির দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা ও বিদেশিদের মধ্যে জীবনযাত্রার ব্যয়ের বৈষম্য বাড়ছে।
তৃতীয় স্থানে থাকা ভিয়েনা আন্তর্জাতিক নানা আয়োজন, আঙুরক্ষেত, আধুনিক সুইমিং পুল এবং সামাজিক আবাসন কর্মসূচির জন্য প্রশংসা পেয়েছে। ২০২৫ সালে শহরটিতে নতুন পাঁচটি আবাসন প্রকল্প নির্মাণ এবং ১১টি পুরোনো আবাসন কমপ্লেক্স সংস্কার করা হয়েছে। তবে ২০২৩ সালে বিশ্বের সবচেয়ে বাসযোগ্য শহর থাকলেও এবার ভিয়েনার অবস্থান কিছুটা নেমে এসেছে।
অন্যদিকে ইউরোপের আরও কয়েকটি শহরের মধ্যে হেলসিঙ্কি, আমস্টারডাম ও বার্সেলোনা শীর্ষ ২০-এ থাকলেও তালিকার নিচের দিকে অবস্থান করেছে।
সূত্র: ইউরো নিউজ
এ জাতীয় আরো খবর..