✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-২৫, | ২০:০৫:৪২ |কুড়িগ্রামে সবকটি নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়েছে। গত পাঁচদিন পর নতুন করে পানি কমতে শুরু করায় নদী পাড়ের মানুষের কিছুটা স্বস্তি মিলছে। তবে এখন ভাঙন নিয়ে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যায় পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্রসহ সবকটি নদ-নদীর পানি দ্রুতই কমছে। তবে ব্রহ্মপুত্র নদের তিনটি পয়েন্টে পানি বাড়লেও আজ তা সন্ধ্যায় স্থিরাবস্থায় রয়েছে। ফলে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। দুইদফা বন্যায় তলিয়ে যাওয়া ৫০০ হেক্টর ফসলের মধ্যে দেড়শ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হওয়ায় কৃষকেরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
এদিকে জেলার নদ-নদীর ৩৮টি পয়েন্টে ভাঙন দেখা দেওয়ায় নদী পাড়ের বাসিন্দারা ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। চিলমারী উপজেলার রানীগঞ্জে আবারো কাচকল এলাকায় প্রায় ৬০ মিটার বাঁধ পুনরায় ভেঙে গিয়ে রাস্তার অপর পাশের স্থানীয়রা নদী ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়াল ডাঙার রামহরি, খিতাবখা, তৈয়বখা ও বুড়িরহাট বাজার, উলিপুরের হাতিয়া, দাগারকুটি, জলাঙরকুটিসহ জেলার অনেক এলাকায় প্রবল স্রোতে নদী ভাঙছে। অধিকাংশ পয়েন্টেই অস্থায়ীভাবে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা করছে পাউবো।
এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল বিকেলে রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের চর বিদ্যানন্দ ও চর তৈয়বখাঁসহ বিভিন্ন এলাকায় তিস্তা নদীর ভাঙন প্রতিরোধে জিওব্যাগ ডাম্পিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদ প্রশাসক আলহাজ সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, গত শুক্রবার বিকাল থেকে নদ-নদীর পানি কমে জলাবদ্ধতা বা নিম্নাঞ্চলের পানি দ্রুত সরে যাচ্ছে। ফলে বন্যা পরিস্থিতি তেমন নেই। কিন্তু পানি কমে যাওয়ায় তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। বর্তমানে জেলার ৩৮টি স্থানে পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে। আমরা চিলমারীতে কাচকল এলাকায় প্রথমে ১২০০ ও পরে আরো ৪০০ জিওব্যাগ ফেলে প্রতিরোধের চেষ্টা করে যাচ্ছি। শুকনো মৌসুমে এসব এলাকায় স্থায়ীভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাবে।