✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-২৫, | ১৯:৪৩:১৬ |ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে বাঁচার আশায় মানুষের কাছে হাত পেতে, দেশ-বিদেশের মানুষের সহায়তায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা জোগাড় করেছিলেন সিলেটের বিশ্বনাথের সুমন (২৭)। সেই টাকাতেই ভারতের শিলংয়ে চলছিল তাঁর চিকিৎসা। কিন্তু চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার শেষ সম্বলটুকুও রক্ষা পেল না। গভীর রাতে বাড়িতে ডাকাতি করে চিকিৎসার জন্য রাখা পুরো সাড়ে ৩ লাখ টাকা নিয়ে গেছে একদল ডাকাত। টাকা হারিয়ে দেশে ফিরে এখন চিকিৎসা বন্ধ হওয়ার শঙ্কায় কাঁদছেন সুমন।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের নওধার বৈরাগীগাঁও গ্রামে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ওসমানীনগর সার্কেল) মানছুরা আক্তার।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নওধার বৈরাগীগাঁও গ্রামের ছইল মিয়ার ছেলে সুমন দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে আক্রান্ত। পরিবারের আর্থিক অবস্থা অসচ্ছল হওয়ায় তাঁর চিকিৎসার জন্য দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে সহায়তা নিয়ে অর্থ সংগ্রহ করা হয়। গত ২৯ জুন উন্নত চিকিৎসার জন্য সুমনকে ভারতের শিলংয়ে নেয়া হয়।
সম্প্রতি চিকিৎসা চালিয়ে যেতে আরও অর্থের প্রয়োজন হলে সুমন দেশে ফিরে আসেন। ব্যাংকে রাখা চিকিৎসা সহায়তার টাকা উত্তোলনের পাশাপাশি এক প্রবাসীর কাছ থেকে আরও ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ করেন তাঁর বাবা। সব মিলিয়ে চিকিৎসার জন্য জোগাড় করা সাড়ে ৩ লাখ টাকা বাড়ির একটি আলমারিতে কাপড়ের ভাঁজে রাখা হয়েছিল।
সুমনের বাবা ছইল মিয়া জানান, শুক্রবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে ৫-৬ জনের একটি ডাকাতদল বাড়ির পেছনের প্লাস্টিকের দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। পরে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে আলমারিতে রাখা কাপড়ের ভাঁজ থেকে চিকিৎসার জন্য জমানো সাড়ে ৩ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে সুমন বলেন, ‘ডাকাতির খবর শুনে আজই আমি দেশে ফিরেছি। সেখানে অবস্থান করে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার মতো আর কোনো টাকা ছিল না। মানুষের সহায়তায় চিকিৎসার খরচ সংগ্রহ করেছিলাম। এখন বিনা চিকিৎসায় মারা যাওয়া ছাড়া আমার আর কোনো পথ নেই।’
এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ওসমানীনগর সার্কেল) মানছুরা আক্তার বলেন, অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। অভিযোগ যাচাই-বাছাই চলছে। তদন্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।