নিট প্রশ্নফাঁস ও পুলিশের লাঠিচার্জ: আড়াই মাস পর টনক নড়ল ভারত সরকারের

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-২৩, | ১৮:২৬:৪২ |

গত ৩ মে ভারতে অনুষ্ঠিত নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে গত আড়াই মাস ধরে চলা আন্দোলন অবশেষে চরম রূপ নিয়েছে। গত ২০ জুলাই দিল্লির যন্তর-মন্তর থেকে শিক্ষার্থীদের পূর্বঘোষিত ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করলে ওই এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানসহ রাজনৈতিক মহলের টনক নড়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, ‘প্রশ্নফাঁস মহাপাপ, এরজন্য দায়ীদের সাজা পেতেই হবে।’

অন্যদিকে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান জানিয়েছেন, প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে সংসদে আলোচনা করতে তারা শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং শিক্ষার্থীরা জবাবদিহিতা পাবেন। বর্তমানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা শিক্ষার্থীদের সাথে বসে সমাধানের চেষ্টা করছেন এবং বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রীর বাসার সামনে ধর্নায় বসেছেন।

মূলত প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে ৩ মের পরীক্ষা বাতিলের পর শিক্ষার্থীদের ওপর প্রবল মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়। এর ফলে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে অন্তত ১২ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছিল। পরবর্তীতে ২১ জুন কঠোর নিরাপত্তায় পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয়। এর আগে, ৭ জুন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর-মন্তরে প্রথম প্রতিবাদ সমাবেশ করে নবগঠিত করোচ জনতা পার্টি। এরপর ২৮ জুন লাদাখের অ্যাক্টিভিস্ট সোনম ওয়াংচুক শিক্ষার্থীদের সাথে সংহতি প্রকাশ করে আমরণ অনশন শুরু করলে এই আন্দোলন একটি নতুন মাত্রা পায়। ২০ জুলাই সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনকে সামনে রেখে সিজেপি ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল। কিন্তু কর্মসূচি ঠেকাতে পুলিশ দুদিন আগে ভোরবেলায় সোনম ওয়াংচুককে জোর করে তুলে নিয়ে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়।

হাসপাতাল থেকে সোনম ওয়াংচুক ১৯ জুলাই রাতেও জানিয়েছিলেন, সরকার হাসপাতালে তার সাথে দেখা করে সংসদে আলোচনার আশ্বাস দিলে তিনি অনশন ভাঙতে রাজি। কিন্তু সরকার সময়মতো পদক্ষেপ নেয়নি। ২০ জুলাই সোমবার ভোরে যখন হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী যন্তর-মন্তরে সমবেত হয়, তখন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা দুই ছাত্রনেতাকে ডেকে আলোচনার আশ্বাস দেন। কিন্তু ততক্ষণে দেরি হয়ে যাওয়ায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সংসদ ভবনের উদ্দেশে বেরিয়ে পড়ে এবং পুলিশের সাথে সংঘর্ষ বাধে। পুলিশি হামলার পর অরবিন্দ কেজরিওয়াল, অভিনেত্রী শাবানা আজমী ও অভিনেতা প্রকাশ রাজসহ সুশীল সমাজ তীব্র প্রতিবাদ শুরু করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকার যদি ৭ জুনের পর সঠিক পদক্ষেপ নিত, তবে নিরীহ শিক্ষার্থীদের রাজপথে মার খেতে হতো না। একেই বলে, সময়ের এক ফোঁড়, অসময়ের দশ ফোঁড়।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..