✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-১৯, | ২১:৫৩:৫৭ |বিশ্বকাপ ফাইনালের মহারণের আগে চলমান টুর্নামেন্টের গতিপ্রকৃতি, গোলবন্যা এবং ফুটবলারদের পারফরম্যান্স নিয়ে নিজের খোলামেলা বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ফুটবল কিংবদন্তি টোবিন হিথ। ২০০৮ ও ২০১২ অলিম্পিকে স্বর্ণ এবং ২০১৫ ও ২০১৯ নারী বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাক-টু-ব্যাক শিরোপাজয়ী এই তারকা এবার পুরুষ বিশ্বকাপের ফিফা টেকনিক্যাল স্টাডি গ্রুপের একমাত্র নারী বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে ২০২৬ বিশ্বকাপের নানা দিক নিয়ে কথা বলেন তিনি।
চলতি বিশ্বকাপে ১০৩ ম্যাচে এখন পর্যন্ত রেকর্ড ৩০৭টি গোল হয়েছে, যার গড় প্রতি ম্যাচে প্রায় ৩টি। এই অভূতপূর্ব গোলবন্যার পেছনে টুর্নামেন্টের নতুন ফরম্যাট ও দল সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টিকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন হিথ। তিনি জানান, আধুনিক ফুটবলের বিবর্তন এখানে স্পষ্ট। দলগুলো এখন উইং ও ফুল-ব্যাকদের আক্রমণাত্মক ব্যবহার করছে এবং অনেক ওপর থেকে প্রতিপক্ষের পা থেকে বল কেড়ে নিয়ে কাউন্টার-প্রেস করছে। বিশ্বের ভিন্ন ভিন্ন প্রান্তের ফুটবলশৈলী একে অপরের মুখোমুখি হওয়াতেই টুর্নামেন্টটি দর্শকদের জন্য ভীষণ আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
এবারের আসরে আফ্রিকার দলগুলোর সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন এই মার্কিন তারকা। বিশেষ করে কেপ ভার্দে, মিশর ও আইভরি কোস্টের খেলা তাকে মুগ্ধ করেছে। ফাইনালে ওঠা দুই পরাশক্তি আর্জেন্টিনা ও স্পেনের বিরুদ্ধে কেপ ভার্দে যেভাবে বুক চিতিয়ে লড়াই করেছে, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য। নিম্ন সারির রক্ষণভাগ নিয়েও পরাশক্তিদের বিরুদ্ধে আফ্রিকার দলগুলোর এমন সাহসী ফুটবল আগামী বছর অনুষ্ঠিতব্য নারী বিশ্বকাপেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
হিথ জানান, এবারের বিশ্বকাপে ফ্রান্সের ফুটবল তাকে সবচেয়ে বেশি টেনশনে ও রোমাঞ্চে রেখেছে। কিলিয়ান এমবাপ্পে, ওসমানে দেম্বেলেদের পাসিং ও আক্রমণভাগকে তিনি ফুটবলের এক অভাবনীয় উদ্ভাবন হিসেবে আখ্যা দেন। পাশাপাশি জুড বেলিংহাম, আর্লিং হালান্ড এবং লিওনেল মেসির মতো মহাতারকারা তাদের নামের প্রতি পূর্ণ বিচার করেছেন বলে তিনি মনে করেন। তরুণ ও প্রবীণ; দুই প্রজন্মের ফুটবলারদের মেলবন্ধনে বিশ্ব ফুটবলের ভবিষ্যৎ এখন অনেক নিরাপদ হাতে রয়েছে বলে তার বিশ্বাস।
স্পেনের তরুণ তুর্কিদের প্রশংসা করতে গিয়ে হিথ আলাদাভাবে রক্ষণভাগের পাউ কুবার্সির নাম উল্লেখ করেন। এত কম বয়সে স্প্যানিশ রক্ষণভাগে কুবার্সির এমন পরিপক্ব পারফরম্যান্স সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে ফাইনালের মহারণে আরেক তরুণ বিস্ময় লামিনে ইয়ামালের কাছ থেকে একটি জাদুকরী ও অতিমানবীয় মুহূর্ত দেখার জন্য তিনি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। পাশাপাশি, ৩৯ বছর বয়সে এসেও লিওনেল মেসি টুর্নামেন্ট সেরা হওয়ার মতো যেভাবে খেলছেন, তাকে অতিপ্রাকৃতিক বলে বর্ণনা করেন হিথ।