✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-১৯, | ১৪:০০:০১ |বয়স ৩৯। কিন্তু মাঠে দৌড়ান ১৯ বছরের তরুণের মতো। বল পায়ে যখন ছুটে চলেন লিওনেল মেসি, দূর থেকে তখন মনে হয় সবুজ ঘাসের মাঠে লাফিয়ে-ঝাঁপিয়ে ছুটছে চঞ্চলা এক হরিণ! বিশ্বকাপ খেলছেন দুই দশক ধরে। ছয় আসরে গতির সঙ্গে ছন্দোময় ফুটবলের মিশেলে বিশ্ব ফুটবলে আলাদাভাবে জায়গা করে নিয়েছেন মেসি। বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালের মহারণ আজ। ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ স্পেন। আর্জেন্টিনা ১৯৭৮, ১৯৮৬ ও ২০২২ সালের চ্যাম্পিয়ন। স্পেন ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়ন। দুই বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের লড়াইকে আড়ালে রেখে একাই সব আলো কেড়ে নিচ্ছেন মেসি। সাতবারের ফিফা ব্যালন ডি অ’র জেতা মেসি এবার ‘টক অব বিশ্বকাপ’। মাঠে নামলেই রেকর্ড গড়ছেন তিনি। নতুন নতুন রেকর্ড গড়া তার কাছে এখন সরল অঙ্কের মতো সহজ। বাংলাদেশ সময় মধ্যরাতে স্পেনের বিপক্ষে যখন মাঠে নামবেন আর্জেন্টনাইন ফুটবলের জীবন্ত কিংবদন্তি, তখনই তার নামের পাশে লেখা হবে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ৩৪ ম্যাচ খেলার অনন্য রেকর্ড। যদি চ্যাম্পিয়ন হয় আর্জেন্টিনা, তাহলে ব্রাজিলের পর টানা বিশ্বকাপ জয়ের বিরল রেকর্ড গড়বে আলবিসেলেস্তারা। পেলে ও কাফুর পর তৃতীয় ফুটবলার হিসেবে দুটি বিশ্বকাপ জয়ের পালক সোনার মুকুটে পরে নেবেন। বিশ্ব ফুটবলে একমাত্র ফুটবলার পেলে, যিনি বিশ্বকাপ জিতেছেন তিনটি। ১৯৫৮ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে বিশ্বকাপ জিতেছিলেন পেলে। ১৯৬২ সালেও বিশ্বকাপ জিতেছে ব্রাজিল। সেবার সেলেসাওদের স্কোয়াডে ছিলেন তিনি। কিন্তু ইনজুরির জন্য খেলেননি ওই আসর। ১৯৭০ সালে ব্রাজিল ফাইনালে ইতালিকে ৪-১ গোলে হারিয়ে জুলেরিমে ট্রফি চিরতরে নিজেদের করে নেয়। ওই আসরে খেলেছিলেন পেলে। মাঠে উপস্থিত থেকে দুবার বিশ্বকাপ জিতেছেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি। কিন্তু ১৯৬২ সালে না খেলেও স্কোয়াডে থাকায় বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের উদ্যাপন করেছিলেন। ব্রাজিলের আরেক কিংবদন্তি কাফু বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেছেন তিনবার ১৯৯৪, ১৯৯৮ ও ২০০২ সালে। চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন ১৯৯৪ ও ২০০২ সালে। মেসি প্রথম বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেন ২০১৪ সালে। জার্মানির কাছে হেরে রানার্সআপ হন মেসিরা। ২০২২ সালে দ্বিতীয়বার ফাইনালে উঠে প্রথম বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের স্বাদ নেন তিনি। ২০২৬ সালের ফাইনালে উঠেছেন। যদি স্পেনকে হারিয়ে বিশ্বকাপ ট্রফি জেতেন, তাহলে নাম লিখবেন পেলে ও কাফুর পাশে। বিশ্বকাপের ফাইনাল দুবার খেলেছেন মেসির স্বদেশি আরেক কিংবদন্তি দিয়াগো ম্যারাডোনা। ১৯৮৬ সালে ম্যাজিক্যাল ফুটবল খেলে চ্যাম্পিয়ন করেন আর্জেন্টিনাকে। চার বছর পর ১৯৯০ সালে ফাইনালে উঠলেও লোথার ম্যাথিউসের জার্মানির বিপক্ষে হেরে রানার্সআপ হয়েছিল ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা।
২০০৬ সাল থেকে টানা ছয়টি বিশ্বকাপ খেলেছেন মেসি। ফাইনালের আগে ৩৩ ম্যাচে তার গোল ২১টি। কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে যৌথভাবে দুটি বিশ্বকাপে ৭টি করে গোল করেছেন। ২০২২ ও ২০২৬ সালে দুটি বিশ্বকাপে তার গোল এখন পর্যন্ত ১৫টি। এমবাপ্পের গোল ৮টি করে ১৬টি। আর্জেন্টিনা এবং বার্সেলোনা, পিএসজি ও ইন্টার মায়ামির পক্ষে মেসি ৪৮টি ট্রফি জিতেছেন। ফুটবলবিশ্বের আর কোনো ফুটবলার জিততে পারেননি এত ট্রফি। আর্জেন্টিনার হয়ে তিনি ২০২২ সালে বিশ্বকাপ, ২০২১ ও ২০২৪ সালে কোপা আমেরিকা, ২০২২ সালে ফিনালিসিমা, ২০০৮ সালে অলিম্পিক সোনা, ২০০৫ সালে অনূর্ধ্ব-২০ যুব বিশ্বকাপ জেতেন। বার্সেলোনার পক্ষে ৩৫টি ট্রফি জিতেছেন। যার ১০টি লা লিগা, সাতটি কোপা দের রে, স্প্যানিশ সুপার কাপ আটটি, উয়েফা সুপার কাপ এবং ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ তিনবার করে জিতেছেন। পিএসজির হয়ে দুবার লিগ এবং একবার ট্রফি ড্রেস চ্যাম্পিয়ন হন। ইন্টার মায়ামির পক্ষে পাঁচটি ট্রফি জেতেন। এবার যদি গোল্ডেন বল জিততে পারেন মেসি, তাহলে বিশ্বকাপের ইতিহাসে একমাত্র ফুটবলার হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপের গোল্ডেন বল জয়ের বিরল কৃতিত্ব দেখাবেন। ২০১৪ ও ২০২২ সালে গোল্ডেন বল জিতেছিলেন তিনি।