✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-১৯, | ১৩:৪৮:০৭ |একদিকে ফুটবলের নন্দন কাননে গোলের অবিরাম উৎসব, অন্যদিকে ইস্পাতকঠিন রক্ষণের এক দুর্ভেদ্য দুর্গ। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইনরা এবারও টানা বিশ্বকাপ জয়ের আশায় উত্তর আমেরিকায় লড়াই শুরু করে। অপ্রতিরোধ্য গতিতে টর্নেডো আক্রমণে প্রতিপক্ষের জালে গোলবন্যা বইয়ে দিয়েছে মেসিবাহিনী। ১৯ গোল করে আলবিসেলেস্তেরা এখন টুর্নামেন্টের শীর্ষ গোলদাতা দল। অন্যদিকে স্পেন যেন এক অভেদ্য প্রাচীর। চলতি আসরে সাত ম্যাচে মাত্র একটি গোল হজম করেছে ২০১০ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন। যার অন্যতম গোলকিপার উনাই সিমন। তিনিই আজ টুর্নামেন্টে শীর্ষ গোলদাতাদের সামনে হবে প্রাচীরসম। আজ রাতে নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে যখন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপার চূড়ান্ত যুদ্ধ শুরু হবে, তখন ফুটবলবিশ্ব দেখবে দুটি ভিন্ন দলকে। লিওনেল স্কালোনির দল পুরো টুর্নামেন্টে ১১৩ বার চেষ্টা করে টার্গেটে বল রেখেছে ৪৬ বার। যার মধ্যে জালে বল জড়িয়েছে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ ১৯ বার। অন্যদিকে দে লা ফুয়েন্তের দল ১২০ বার চেষ্টা করে টার্গেটে বল রেখেছে ৪২ বার। গোল হয় ১৩টি। তবে ফাইনালে দুই দলের গোলকিপার নিয়ে চলছে আলোচনা। আর্জেন্টিনার ক্যারিশম্যাটিক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ এবং স্পেনের শান্ত স্বভাবের উনাই সিমনের খেলার ধরনের মধ্যে বেশ বড় একটা পার্থক্য রয়েছে। তবে তাদের মধ্যে মিল একটাই, দুজনই এ মুহূর্তে বিশ্বের সেরা গোলরক্ষকদের তালিকায় সবার ওপরে। মার্টিনেজ কাতার ২০২২ বিশ্বকাপে ‘অ্যাডিডাস গোল্ডেন গ্লাভস’ জিতেছিলেন, আর উনাই সিমন উয়েফা ইউরো ২০২৪-এ স্পেনের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অন্যতম কারিগর। উত্তর আমেরিকার এই বিশ্বকাপেও দুজনই দুর্দান্ত ফর্মে আছেন এবং নিজ নিজ দলকে ফাইনালে তুলতে পথ দেখিয়েছেন। কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়াম গোল দেওয়ার আগে সিমন টানা ৬৫০ মিনিট কোনো গোল খাননি, যা এই টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ক্লিনশিট (গোল না খাওয়ার) রাখার রেকর্ড। এখন পর্যন্ত তিনি ছয় ক্লিনশিট ও ১৪টি গোল সেভ করেছেন।
অন্যদিকে আর্জেন্টিনা টুর্নামেন্টে মোট সাতটি গোল খেয়েছে এবং ফাইনালে উঠতে নকআউটে বারবার প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখতে হয়েছে। তবে কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে মার্টিনেজ ছিলেন অনন্য ফর্মে। কাতার ২০২২-এর ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে তাঁর সেই অবিশ্বাস্য বীরত্বের পর এটা পরিষ্কার যে, এই গোলরক্ষক বড় ম্যাচে কীভাবে জ্বলে উঠতে হয় তা খুব ভালো করেই জানেন। মার্টিনেজ এখন পর্যন্ত দুই ক্লিনশিট ও ৯টি গোল সেভ করেছেন। ফিফার টেকনিক্যাল স্টাডি গ্রুপের প্রধান প্যাসকাল জুবারবুহলারের চোখে সিমন যেন স্পেনের টিকিটাকা ডিএনএ-এর এক আধুনিক সেনাপতি। বল পায়ে তিনি ঝুঁকি নেন, বক্সের বাইরে এসে ডিফেন্ডার সেজে খেলা তৈরি করেন। আর মার্টিনেজ? জুবারবুহলারের ভাষায়, তিনি এক ‘ইতিবাচক পাগলাটে নায়ক’, যিনি পেনাল্টি শুটআউটের চাপকে এক ফুঁৎকারে উড়িয়ে তিনটি শট রুখে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। আজ ফাইনালে কার মাথায় উঠবে বিজয়ের মুকুট? স্প্যানিশ সুরম্য দুর্গ ভাঙতে আর্জেন্টিনার চাই সেই চিরন্তন বিশ্বাস আর শতভাগ সমর্পণ। গ্লাভস জোড়ার এই দ্বৈরথে মাঠের ঘাসও বুঝি আজ শিহরিত!