✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-১৪, | ১৮:৪১:১৮ |ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ ইতিহাস গড়ে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছে নরওয়ে। তবে টুর্নামেন্ট শেষ হলেও মাঠের বাইরের এক কাণ্ড দিয়ে সংবাদমাধ্যমের সব আলো নিজের কেড়ে নিয়েছেন দলটির তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড। যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজ দেশে ফেরার সময় এক অদ্ভুত ভ্রমণসঙ্গী নিয়ে এসেছেন এই ম্যানচেস্টার সিটি তারকা, যা দেখে রীতিমতো তাজ্জব বনে গেছেন ভক্ত-সমর্থকরা।
সোমবার ওসলোর গার্ডারমোয়েন বিমানবন্দরে নরওয়ে দলের বিমানটি যখন অবতরণ করে, তখন লাল গালিচায় হালান্ডকে দেখা যায় একেবারেই ভিন্ন এক লুকে। তিনি বগলদাবা করে নিয়ে এসেছেন ৭৫০ মার্কিন ডলার মূল্যের একটি ট্যাক্সিডার্মি বা প্রক্রিয়াজাত করা স্টাফড রেকুন, যার হাতে ধরা একটি হুইস্কির বোতল। বিমানবন্দরে নামার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেই রেকুনের ছবি শেয়ার করে হালান্ড স্বভাবসুলভ রসিকতায় ক্যাপশন দিয়েছেন, এটি নিজেই আমার পিছু পিছু বাড়ি চলে এসেছে।
আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে এমন একটি স্টাফড বন্যপ্রাণী নিয়ে আসার পেছনের গল্পটি বেশ মজার। জুলাইয়ের শুরুতে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে টেক্সাসে অবস্থান করছিল নরওয়ে দল। টুর্নামেন্টের মাঝে পাওয়া এক বিরতিতে হালান্ড ডালাসের বিখ্যাত ‘ওয়াইল্ড বিলস ওয়েস্টার্ন স্টোর’ পরিদর্শনে যান। সেখানে আমেরিকার দক্ষিণাঞ্চলীয় কাউবয় সংস্কৃতিতে মেতে উঠে তিনি একটি কালো কাউবয় হ্যাট, চামড়ার বুট এবং টি-শার্ট কেনেন। কেনাকাটার এক পর্যায়ে দোকানের এক কোণে রাখা অদ্ভুত সব ট্যাক্সিডার্মি বা স্টাফড পশুপাখির দিকে চোখ যায় তার। সেখান থেকেই মূলত ‘হুইস্কি রেকুন’ নামের এই অদ্ভুত স্টাফড রেকুনটি পছন্দ করে কিনে নেন তিনি। ম্যানচেস্টার সিটির এই সুপারস্টারের আগমনে দোকানের মালিকরা এতটাই আপ্লুত ছিলেন যে তারা হালান্ডের ছবি তাদের ওয়েবসাইটের হোমপেজে আপলোড করেন। এরপরই শুরু হয় আসল চমক। হালান্ডের সেই ছবির জাদুতে মুহূর্তের মধ্যেই ৭৫০ ডলারের এই স্টাফড রেকুন অনলাইনে সম্পূর্ণ বিক্রি হয়ে যায় এবং বিশ্বজুড়ে অর্ডার সামলাতে দোকান কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক শিপিংয়ের ব্যবস্থা করতে বাধ্য হয়।
এবারের বিশ্বকাপে মাঠের পারফরম্যান্সেও এমন একটি স্মরণীয় স্মারক পাওয়ার যোগ্য দাবিদার ছিলেন হালান্ড। ব্রাজিলের মতো পরাশক্তিকে শেষ ষোলোর ম্যাচে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার ঐতিহাসিক গৌরব অর্জন করে নরওয়ে। যদিও শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের কাছে ২-১ গোলের এক বিতর্কিত ম্যাচে হেরে তাদের বিদায় নিতে হয়, তবে পুরো টুর্নামেন্টে নরওয়ের হয়ে সর্বোচ্চ ৭টি গোল করে অনন্য দ্যুতি ছড়িয়েছেন হালান্ড।