টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১২ হাজার গ্রাহক সাময়িকভাবে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। তবে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। কোথাও বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় সংযোগ সচল করা হয়েছে, আবার কোথাও ক্ষতিগ্রস্ত লাইন ও খুঁটি মেরামতে কাজ করছেন কর্মীরা। বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের দুটি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ছাড়াও কক্সবাজার ও হবিগঞ্জের কিছু পকেটে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এর বাইরে বান্দরবানের একটি উপকেন্দ্রে বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে।
আরইবির প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তা পরিতোষ সূত্রধর বলেন, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও হবিগঞ্জের কিছু এলাকায় সমস্যা হলেও তা একদমই সীমিত। উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হলেও সেখানে কোনো গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার প্রয়োজন হয়নি।
এদিকে চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর জেনারেল ম্যানেজার মো. আলতাফ গওহার চৌধুরী জানান, রাঙ্গুনিয়ায় সড়ক ধসে বিদ্যুতের দুটি খুঁটি ভেঙে পড়েছে। এতে করে প্রায় ৫০০ গ্রাহক বিদ্যুৎহীন অবস্থায় আছেন। রোববার সকাল থেকেই খুঁটি প্রতিস্থাপনের কাজ চলছে, যা শেষ হলেই সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।
চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার রিপন কুমার দাস বলেন, সাতকানিয়া, বাঁশখালী ও চন্দনাইশের নিচু এলাকাগুলো এখনো পানিতে ডুবে থাকায় সুরক্ষার স্বার্থে বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা হয়েছে। শনিবার সেখানে বিদ্যুৎহীন ছিলেন প্রায় ১৫ হাজার গ্রাহক। তবে রোববার পানি নেমে যাওয়ায় চার হাজার গ্রাহকের সংযোগ চালু করা হয়েছে। বাকি এলাকাগুলো থেকে পানি সরলে দ্রুতই বিদ্যুৎ ফিরবে।
কক্সবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ সরওয়ার জাহান জানান, তাদের আওতাধীন এলাকার প্রায় ৩০০টি বাড়ি বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন রয়েছে। দ্রুত সংযোগ পুনর্বহালে মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে।
হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার জিল্লুর রহমান বলেন, স্থানীয় একটি বাঁধ ভেঙে এলাকা প্লাবিত হওয়ায় নিরাপত্তার জন্য কিছু গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ সাময়িক বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। তবে শুক্রবারই সেখানে আবার সরবরাহ স্বাভাবিক করা হয়েছে।
অন্যদিকে রাজধানী ঢাকায় শনিবার রাত থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত মুষলধারে বৃষ্টিতে বেশ কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। ভবনের নিচতলা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে কয়েকটি ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। পানি নেমে যাওয়ার পর সেসব ভবনে আবার বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে।
এ জাতীয় আরো খবর..