বদলে গেল বালোগানের শাস্তি, ফিফার একক সিদ্ধান্তে নতুন বিতর্ক

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-১৪, | ১৩:৫২:১০ |

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ শেষের পথে। তবে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি এবারের আসরজুড়ে রেফারিং, ভিএআর, রাজনৈতিক ইস্যু এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে একের পর এক বিতর্কও আলোচনায় রয়েছে। সব বিতর্ক ছাপিয়ে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ডের শাস্তি স্থগিতের ঘটনাকে ঘিরে।

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর আগে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ম্যাচে লাল কার্ড দেখেছিলেন বালোগান। নিয়ম অনুযায়ী, পরের ম্যাচে বেলজিয়ামের বিপক্ষে তার নিষিদ্ধ থাকার কথা ছিল। কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞা শেষ মুহূর্তে স্থগিত করে তাকে খেলার অনুমতি দেয় ফিফা।

প্রথমদিকে জানানো হয়েছিল, ফিফার গভর্নিং বডি স্বাধীনভাবে বিষয়টি পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে পরে প্রকাশিত তথ্য বলছে, সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছিল ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আল-কামালির একক সিদ্ধান্তে। এ বিষয়ে কমিটির অন্য সদস্যদের সঙ্গে কোনো ধরনের পরামর্শ করা হয়নি।

ফুটবল মহলে আরও আলোচনার জন্ম দিয়েছে আরেকটি অভিযোগ। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে ফোনে কথা বলে বালোগানের শাস্তি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। এরপরই নিষেধাজ্ঞা ১২ মাসের জন্য স্থগিত করা হয়, ফলে বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাঠে নামতে পারেন মার্কিন এই ফরোয়ার্ড।

ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটির প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, এমন সিদ্ধান্ত সাধারণত চেয়ারম্যান, ডেপুটি চেয়ারম্যান এবং আরেক সদস্যকে নিয়ে গঠিত তিন সদস্যের প্যানেল গ্রহণ করে। জরুরি পরিস্থিতিতে একক সিদ্ধান্তের ক্ষমতা থাকলেও সেটি সাধারণত ডেপুটি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে প্রয়োগ করা হয়। কিন্তু বালোগানের ঘটনায় সেই প্রক্রিয়াও অনুসরণ করা হয়নি বলে জানা গেছে।

এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ১৩ জন ফুটবলার লাল কার্ড দেখেছেন। তাদের মধ্যে ১২ জনই নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী ম্যাচে নিষেধাজ্ঞা ভোগ করেছেন বা করবেন। একমাত্র বালোগানই লাল কার্ড দেখার পরের ম্যাচেও মাঠে নামার সুযোগ পান। তবে সেই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রকে শেষ পর্যন্ত সুবিধা এনে দিতে পারেনি। বেলজিয়ামের কাছে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নেয় স্বাগতিকরা।

বালোগানের শাস্তি স্থগিতের পুরো ঘটনাকে ঘিরে ফিফার স্বচ্ছতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে এমন নজির ফিফার শৃঙ্খলা ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে পারে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..