কোর্তোয়াকে কেন তুলে নিয়েছিলেন, জানালেন কোচ

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-১১, | ১৪:১৭:০৬ |

স্পেনের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে হৃদয়বিদারকভাবে শেষ হলো থিবো কোর্তোয়ার এবারের বিশ্বকাপ যাত্রা। ম্যাচের ৭১ মিনিটে তাকে মাঠ থেকে তুলে নেন কোচ। মাঠ ছাড়ার সময় তাকে অঝরো কাঁদতে দেখা যায়। তিনি যখন মাঠ ছাড়েন তখন স্কোরলাইন ছিল ১-১। 

কোর্তোয়াকে তুলে নিয়ে বদলি গোলকিপার নামিয়েছিলেন বেলজিয়াম কোচ। আর সেই গোলকিপারের ভুলেই দ্বিতীয় গোল হজম করে স্পেনের কাছে ২-১ গোলে হেরেছে বেলজিয়াম। ম্যাচ শেষে কোর্তোয়া জানান, তিনি খেলা চালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কোচ রুডি গার্সিয়া তাকে মাঠে রাখতে রাজি ছিলেন না।

ম্যাচ শেষে কোর্তোয়া জানান, দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে একটি লং কিক নেওয়ার সময় ঊরুর সামনের পেশিতে ব্যথা অনুভব করেছিলেন। এরপর কয়েকটি সেভ করলেও আবার লং কিক নেওয়ার সময় ব্যথা বাড়ে। তবে তার বিশ্বাস ছিল, অন্তত আরও কিছুক্ষণ খেলা চালিয়ে যেতে পারতেন, ‘ঊরুর সামনের পেশিতে অনেক ব্যথা ছিল। কিন্তু গোলপোস্টে দাঁড়িয়ে থাকতে আমার কোনো সমস্যা ছিল না, শুধু লং কিক নিতে সমস্যা হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত কোচই আমাকে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এতে কোনো সমস্যা নেই কারণ দলটাই সবার আগে।’’

কোর্তোয়া তুলে নেওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল বেলজিয়াম কোচ রুডি গার্সিয়াকে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপের শুরু থেকেই আমার ভাবনা ছিল শতভাগ ফিট নয়, এমন খেলোয়াড়কে মাঠে না রাখা। আজ কোর্তোয়ার ক্ষেত্রেও সেটাই হয়েছে।’

কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে কোর্তোয়ার বদলি নামা গোলকিপারই পরে হারের কারণ হয়েছেন। ২৪ বছর বয়সী গোলকিপার সেনে লামেন্সের বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ ছিল এটি। ৮৮তম মিনিটে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই গোলকিপার পাউ কুবারসির শট ঠিকঠাক গ্রিপ করতে না পারায় নাগালে পেয়ে যান মিকেল মেরিনো, যেখান থেকে গোল করতে ভুল করেননি এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডার।

তবে ম্যাচ শেষে বদলি গোলকিপারের পাশে দাঁড়িয়েছেন কোর্তোয়া, ‘(খেলা শেষে) আমি তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছি। ওই মুহূর্তে এর বেশি কিছু করার ছিল না। সে দারুণ একজন গোলকিপার। এই অভিজ্ঞতা থেকে সে আরও শক্ত হয়ে ফিরবে।’

অভিজ্ঞতাটা বড্ড কঠিনই হলো লামেন্সের জন্য। দল বিদায় নিয়েছে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে। শুক্রবার লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়।

চোট পাওয়ার আগে অবশ্য দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছিলেন কোর্তোয়া। স্পেনকে আটকে রাখতে চারটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন তিনি। মাঠ ছাড়ার আগে একমাত্র গোলটি হজম করেন ৩০ মিনিটে, ফাবিয়ান রুইজের শট বাজেভাবে দিক পরিবর্তন করে জালে ঢুকে যাওয়ায়। এছাড়া স্পেনের চাপের বিপক্ষে বল বিল্ডআপেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি, ২৯টি পাসের মধ্যে ২২টি সফলভাবে সম্পন্ন করেন।

চলতি বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের অন্যতম সেরা পারফর্মার ছিলেন ৩৪ বছর বয়সী কোর্তোয়া। স্পেনের বিপক্ষে এই কোয়ার্টার ফাইনাল ছিল বিশ্বকাপে তার ২১তম ম্যাচ। এতে গোলরক্ষকদের মধ্যে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার তালিকায় এককভাবে দুই নম্বরে উঠে এসেছেন তিনি। শীর্ষে আছেন শুধু জার্মানির ম্যানুয়েল নয়ারই, যার ম্যাচসংখ্যা ২৩টি।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..