✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-০৮, | ১৪:৩২:১১ |চরম নাটকীয়তা, অনবদ্য ফুটবল এবং শেষ মুহূর্তের এক বুকভরা হাহাকার নিয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল ফারাওদের দেশ মিসর। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে একপর্যায়ে দুই গোলের লিড নিয়েও শেষ ১৩ মিনিটের ঝড়ে ম্যাচ হাতছাড়া হয়ে গেল তাদের। রাউন্ড অব সিক্সটিনের এই শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে ৩-২ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে মিসরের। তবে হারের বেদনা ছাপিয়ে এখন গোটা মিসরের বুক জুড়ে রাজত্ব করছে তাদের ফুটবলারদের বীরত্বগাথা পারফরম্যান্সের গৌরব।
আমেরিকার আটলান্টায় অনুষ্ঠিত এই ম্যাচের শুরুটা ছিল মিসরের জন্য রূপকথার মতো। ম্যাচের প্রথমার্ধে ইয়াসির ইব্রাহিম এবং দ্বিতীয়ার্ধে মোস্তফা জিকোর দুর্দান্ত গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে ইতিহাস গড়ার পথেই হাঁটছিল মিসর। এমনকি প্রথমার্ধে খোদ লিওনেল মেসির পেনাল্টি শট ঠেকিয়ে দিয়ে গ্যালারিতে উল্লাসের জোয়ার বইয়ে দিয়েছিলেন মিসরীয় গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইব। কায়রো, গিজা কিংবা আলেকজান্দ্রিয়ার ক্যাফে ও রাস্তায় জড়ো হওয়া লাখো মিসরীয় ভক্ত তখন কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু ম্যাচের ৭৯ মিনিটে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর গোল দিয়ে আর্জেন্টিনার প্রত্যাবর্তনের গল্প শুরু হয়। এর মাত্র চার মিনিট পর জাদুকরী ছন্দে সমতা ফেরান লিওনেল মেসি। আর খেলা শেষের ঠিক আগ মুহূর্তে এনজো ফার্নান্দেজের করা জয়সূচক গোলটি স্তব্ধ করে দেয় পুরো মিসরকে।
এই নাটকীয় পরাজয়ের পর মিসরীয় সমর্থকদের মধ্যে কান্নার পাশাপাশি রেফারিং নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভক্তদের অভিযোগ, ম্যাচের একপর্যায়ে অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহকে ফাউল করা হলেও রেফারি সেটি এড়িয়ে যান, যা পরে আর্জেন্টিনার গোলের সুযোগ তৈরি করে দেয়। অনেক সমর্থক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ফিফা হয়তো চায়নি মেসি টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিক, আর তাই পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্তের বলি হতে হয়েছে মিসরকে। তবে এত বড় ধাক্কার পরেও কোচ হোসাম হাসানের ওপর দারুণ খুশি সমর্থকেরা।
২০২৪ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সমালোচনার মুখে থাকা এই কিংবদন্তি কোচ যেভাবে দলটিকে এক সুতোয় বেঁধেছিলেন, তা দেশটির সোনালি প্রজন্মের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। একই সাথে টুর্নামেন্ট চলাকালীন গাজার মানুষের প্রতি কোচের সংহতি প্রকাশ ও ফিলিস্তিনি পতাকা তুলে ধরাও আলাদাভাবে কেড়েছে সবার মন। বিদায়ের অশ্রু আর রেফারির প্রতি ক্ষোভ সামলে নিয়ে এখন পুরো মিসর এক বাক্যে স্বীকার করছে, ম্যাচ হারলেও বিশ্বমঞ্চে বীরের মতোই লড়েছে তাদের ছেলেরা।