✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-০৭, | ১৪:৪৭:৫৬ |বিশ্বকাপের রাউন্ড অব সিক্সটিনে আরেকটি আকর্ষণীয় লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের সুইজারল্যান্ড ও লাতিন আমেরিকার কলম্বিয়া। একদিকে শৃঙ্খলাবদ্ধ ও দৃঢ় রক্ষণভাগ, অন্যদিকে গতিময় ও ধারালো আক্রমণ দুই ভিন্ন ফুটবল দর্শনের এই লড়াইকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ। মঙ্গলবার কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় শুরু হবে ম্যাচটি।
বিশ্বকাপের মঞ্চে দু’দলের দেখা হয়েছে মাত্র একবার। ১৯৯৪ সালের আসরে সেই লড়াইয়ে ২-০ গোলে জয় পেয়েছিল কলম্বিয়া। তিন দশক পর আবারও বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মুখোমুখি হচ্ছে দু’দল। এবারও লক্ষ্য একটাই কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করা। নিজেদের ইতিহাসে একবার করে শেষ আটে খেলা সুইজারল্যান্ড ও কলম্বিয়া এবার সেই সাফল্য পুনরাবৃত্তির পাশাপাশি নতুন ইতিহাস গড়ার সুযোগ পাচ্ছে।
এবারের বিশ্বকাপে দারুণ ছন্দে রয়েছে সুইজারল্যান্ড। গ্রুপ পর্বে স্বাগতিক কানাডাকে হারিয়ে নকআউটে জায়গা করে নেয়ার পর রাউন্ড অব ৩২ এ আলজেরিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়েছে মুরাত ইয়াকিনের দল। সেই সঙ্গে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে টানা তিন ম্যাচ জয়ের কীর্তিও গড়েছে সুইসরা।
দলের সবচেয়ে বড় ভরসা হয়ে উঠেছেন মাত্র ২০ বছর বয়সী জোহান মানজাম্বি। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত তিন গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করে নিজেকে অন্যতম সেরা উদীয়মান ফুটবলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। তাকে ঘিরে কিছুটা শঙ্কা থাকলেও সুইজারল্যান্ড কোচ মুরাত ইয়াকিন জানিয়েছেন, গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে মানজাম্বিকে পাওয়ার ব্যাপারে তিনি আশাবাদী।
ইয়াকিন বলেন, জোহান আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড়। আমরা আশা করছি, তাকে এই ম্যাচে মাঠে পাব। এজন্য আমরা সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এমন একটি ম্যাচে তাকে বেঞ্চে বসে থাকতে দেখাটা সত্যিই অস্বস্তিকর হতো।
দলের আরও দুই ফুটবলার রুবেন ভার্গাস ও জিব্রিল শ’কে নিয়েও শঙ্কা ছিল। তবে কোচ জানিয়েছেন, তাদের অবস্থাও ইতিবাচক এবং ম্যাচের জন্য প্রস্তুত থাকার সম্ভাবনাই বেশি।
অন্যদিকে কলম্বিয়া শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ঘানাকে ১-০ গোলে হারিয়ে। ব্যবধান এক গোল হলেও পুরো ম্যাচে আক্রমণে ছিল তাদের স্পষ্ট আধিপত্য। পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই প্রতিপক্ষের রক্ষণে লাগাতার চাপ তৈরি করেছে নেস্তর লরেঞ্জোর দল। শেষ তিন ম্যাচেই তারা প্রতিপক্ষের গোলমুখে অসংখ্য আক্রমণ গড়ে তুলেছে। ম্যাচপ্রতি ২০টিরও বেশি শট নেয়া দলটির আক্রমণভাগের ধার কতটা, সেই পরিসংখ্যানই তার প্রমাণ।
লুইস দিয়াজ, হামেস রদ্রিগেজ ও জন আরিয়াসকে নিয়ে গড়া কলম্বিয়ার আক্রমণভাগ যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়ার সামর্থ্য রাখে। অভিজ্ঞতা ও গতি দুটির সমন্বয় থাকায় প্রতিপক্ষের জন্য তাদের সামলানো সহজ হবে না।
তবে শুধু আক্রমণেই নয়, রক্ষণেও সমানভাবে মুগ্ধ করেছে কলম্বিয়া। টুর্নামেন্টে টানা তিনটি ক্লিন শিট রেখেছে তারা। এখন পর্যন্ত পুরো আসরে মাত্র একটি গোল হজম করেছে লাতিন আমেরিকার দলটি। ফলে সুইজারল্যান্ডের সংগঠিত আক্রমণের সামনে কলম্বিয়ার রক্ষণও বড় পরীক্ষার মুখে পড়বে।
সব মিলিয়ে ম্যাচটি হতে পারে কৌশল, ধৈর্য ও আক্রমণাত্মক ফুটবলের এক দারুণ লড়াই। একদিকে সুইজারল্যান্ডের শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ ও দলগত ফুটবল, অন্যদিকে কলম্বিয়ার গতিময় আক্রমণ ও সৃজনশীলতা। শেষ পর্যন্ত কোন দর্শনের জয় হবে, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।