ঐতিহ্যবাহী আয়োজনে নতুন গিলাফে সজ্জিত হলো পবিত্র কাবা (ভিডিও)

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৬-১৯, | ১১:০৪:৩২ |
নতুন হিজরি বছর ১৪৪৮-এর সূচনায় ইসলামের পবিত্রতম স্থান পবিত্র কাবা শরিফে পরানো হয়েছে নতুন গিলাফ। মঙ্গলবার (১৬ জুন) ১ মহররম ভোরে সৌদি আরবের মক্কার মসজিদুল হারামে ঐতিহ্যবাহী এই বার্ষিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। ঐতিহ্যবাহী আয়োজনের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ কারিগরদের একটি দল ধাপে ধাপে পুরোনো গিলাফ সরিয়ে পবিত্র কাবায় নতুন গিলাফ স্থাপন করেন।

সংবাদমাধ্যম সিয়াসত ডেইলি বলছে, সৌদি আরবের মক্কায় অবস্থিত মসজিদুল হারামে পবিত্র কাবার গিলাফ (কিসওয়া) পরিবর্তন করা হয়েছে। মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববী বিষয়ক জেনারেল প্রেসিডেন্সির তত্ত্বাবধানে এই কাজ পরিচালিত হয়। পুরো কার্যক্রমে তদারকি করেন প্রেসিডেন্সির প্রধান শাইখ ড. আবদুর রহমান বিন আবদুল আজিজ আল-সুদাইস।

পবিত্র কাবার কিসওয়া তৈরির জন্য প্রতিষ্ঠিত কিং আবদুল আজিজ কমপ্লেক্সের কারিগর ও প্রযুক্তিবিদদের একটি দল ১০ ধাপের একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুরোনো গিলাফ সরিয়ে নতুন গিলাফ স্থাপন করেন। এসময় নিজ নিজ দায়িত্ব অনুযায়ী তারা পুরোনো কিসওয়া খুলে ফেলেন, নতুন কিসওয়া স্থাপন করেন এবং কাবার কোণা ও ছাদের সঙ্গে তা সংযুক্ত করেন।

নতুন কিসওয়া স্থাপনের সময় কাবার চারটি দিকের প্রতিটি অংশ আলাদাভাবে ওপরে তোলা হয়। এরপর তা পুরোনো গিলাফের ওপর বিছিয়ে বেঁধে দেয়া হয় এবং ধীরে ধীরে নামানো হয়। একই সঙ্গে নিচের দিক থেকে পুরোনো গিলাফ সরিয়ে নতুন গিলাফ স্থাপন করা হয়।

কাবার চারটি দিকেই একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। সব অংশ স্থাপন শেষ হলে সেলাইয়ের মাধ্যমে কিসওয়ার বেল্ট বা হিজামকে সোজাভাবে সংযুক্ত করা হয়। এরপর গিলাফের বিভিন্ন পাশ ও কোণা ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত সেলাই করে স্থায়ীভাবে সংযুক্ত করা হয়।

পরে কাবার দরজার পর্দা স্থাপন করা হয়। এটি অত্যন্ত দক্ষতা ও সময়সাপেক্ষ একটি কাজ। এ জন্য কালো কাপড়কে কেটে দরজার পর্দার মাপ অনুযায়ী তৈরি করা হয়। পর্দাটির প্রস্থ প্রায় ৩ দশমিক ৩৩ মিটার এবং দৈর্ঘ্য ৬ দশমিক ৩৫ মিটার।

কাবার গিলাফে মোট ৫৩টি স্বর্ণখচিত অলংকারযুক্ত অংশ রয়েছে। এর মধ্যে বেল্টের জন্য ১৬টি, বেল্টের নিচে ৭টি, ৪টি ঝুলন্ত অলংকার, ১৭টি ফানুস আকৃতির অংশ, দরজার পর্দার জন্য ৫টি, ইয়েমেনি কোণের জন্য ১টি, ২টি কিনারা এবং একটি মিজাব বা নালার অলংকার রয়েছে।

প্রসঙ্গত, কাবা শরিফের কিসওয়া তৈরির কাজ কয়েক মাস আগে থেকেই শুরু হয় কিং আবদুল আজিজ কমপ্লেক্সে। সেখানে বিশেষজ্ঞরা খাঁটি প্রাকৃতিক রেশম দিয়ে কিসওয়া তৈরি করেন এবং সোনালি ও রুপালি প্রলেপযুক্ত সুতা দিয়ে তাতে নকশা ও কোরআনের আয়াত সূচিকর্মের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলেন।

এছাড়া কিসওয়া পরিবর্তন শুধু একটি আনুষ্ঠানিক কাজ নয়; এর রয়েছে গভীর ধর্মীয় ও সভ্যতাগত গুরুত্ব। এটি মুসলমানদের হৃদয়ে কাবা শরিফের বিশেষ মর্যাদার প্রতিফলন। একই সঙ্গে এটি ইসলাম ও মুসলমানদের সেবায় এবং দুই পবিত্র মসজিদের দেখভালে সৌদি নেতৃত্বের দীর্ঘদিনের অঙ্গীকারেরও প্রতিচ্ছবি।

মুহাররম মাসের প্রথম দিনের ভোরে কাবা শরিফ নতুন কিসওয়ায় সজ্জিত হয়ে থাকে। এর মধ্য দিয়ে শুরু হয় নতুন হিজরি বছর। প্রতি বছরের এই আয়োজন মসজিদুল হারামের প্রতি অব্যাহত যত্নের প্রতীক এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে আসা ইসলামি ঐতিহ্যের এক অনন্য প্রকাশ।


শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..