✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৬-১৮, | ১৮:২৯:৪০ |পর্দায় ‘মল্লিশ্বরী’ মুক্তির দুই দশকেরও বেশি সময় পার হয়ে গেছে। এত বছর পর ছবিটির পরিচালক কে বিজয় ভাস্কর তার তেলেগু অভিষেক চলচ্চিত্রে ক্যাটরিনা কাইফকে কাস্ট করা এবং তাকে পরিচালনা করার পেছনে থাকা নানা চ্যালেঞ্জ নিয়ে মুখ খুলেছেন। ২০০৪ সালে মুক্তি পাওয়া ভেঙ্কটেশ অভিনীত এই রোমান্টিক কমেডি ছবিটি ক্যাটরিনাকে দক্ষিণ ভারতীয় দর্শকদের কাছে পরিচিত করে তুলেছিল। তবে পরিচালকের মতে, তাকে এই চরিত্রের জন্য রাজি করানো এবং তার কাছ থেকে সেরা অভিনয় বের করে আনা মোটেও সহজ ছিল না।
আইড্রিম মিডিয়াকে দেওয়া এক পুরোনো সাক্ষাৎকারে সেই অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে বিজয় ভাস্কর স্বীকার করেন যে, ক্যাটরিনাকে পরিচালনা করা বেশ কঠিন ছিল কারণ তিনি চলচ্চিত্রশিল্পে তখন একেবারেই নতুন ছিলেন। তবে একইসঙ্গে তিনি যোগ করেন, ক্যাটরিনা খুবই কঠোর পরিশ্রমী একজন মানুষ। পরিচালক জানান, সে সময় ক্যাটরিনা অভিনয়ে নিজের জায়গা খোঁজার চেষ্টা করছিলেন। এমনকি তার কোনো প্রথাগত বডি ল্যাঙ্গুয়েজ বা শারীরিক অঙ্গভঙ্গিও ছিল না। অনেকসময় তিনি কীভাবে বসবেন, সেটিও পরিচালককে শিখিয়ে দিতে হতো। যেহেতু ক্যাটরিনা সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পরিবেশে বড় হয়েছেন, তাই একজন তেলেগু মেয়ে বা রাজকন্যার রাজকীয় ভাব এবং একইসঙ্গে বিনয়ী ও প্রেমময় রূপ কেমন হওয়া উচিত, সে সম্পর্কে তার কোনো ধারণাই ছিল না।
মজার বিষয় হলো, ‘মল্লিশ্বরী’ ছবিতে ক্যাটরিনার অভিনয় করার কথাই ছিল না। চলচ্চিত্র নির্মাতা জানান, তিনি প্রথমে একটি বিজ্ঞাপনে ক্যাটরিনাকে দেখে মুগ্ধ হন এবং ভাবেন এই চরিত্রের জন্য তিনিই উপযুক্ত। কিন্তু তাকে চুক্তিবদ্ধ করার প্রক্রিয়াটি ছিল বেশ জটিল। বিজয় ভাস্কর বলেন, ক্যাটরিনাকে নেওয়ার সিদ্ধান্তটি তার নিজের হওয়ায় প্রযোজকের জন্য বিষয়টি বেশ কঠিন হয়ে পড়েছিল। মুম্বাই গিয়ে তাকে গল্প শোনানোর পর ক্যাটরিনা রাজি হলেও, ওই দিনই পরের দিকে কিছু বিষয়ে মতবিরোধ তৈরি হয়। এমনকি প্রোডাকশন টিমের পক্ষ থেকে অগ্রিম টাকা দেওয়া হলেও তিনি তা নিতে অস্বীকৃতি জানান।
এই ধাক্কার পর ছবির নির্মাতারা অন্য নায়িকার খোঁজ শুরু করেন। প্রযোজক সুরেশ দাগুবতি সে সময়ের শীর্ষস্থানীয় সব সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের অডিশন ও ফটোশুটের জন্য ডাকেন। চরিত্রটির জন্য অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী সোনালী বেন্দ্রের নামও জোরালোভাবে বিবেচনায় ছিল। সোনালী বেন্দ্রেকে ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ করলেও পরিচালক জানতেন যে তিনি ‘মল্লিশ্বরী’ চরিত্রের জন্য উপযুক্ত নন, কারণ এর আগে ‘মনমধুডু’ ছবিতে তিনি সোনালীর সঙ্গে কাজ করেছিলেন। সবাই সোনালীকে চাইলেও বিজয় ভাস্কর চেয়েছিলেন এমন এক নতুন মুখ, যাকে দেখে দর্শক সত্যিই একজন অচেনা রাজকন্যার আবহ খুঁজে পাবেন। শেষ পর্যন্ত পরিচালক নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন, যা ক্যাটরিনা কাইফকে তার ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্রেক এনে দেয় এবং পরবর্তীতে তিনি ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম শীর্ষ তারকা হয়ে ওঠেন।
সূত্র: এনডিটিভি