✕

সর্বশেষ :
হরমুজে ইরানের নতুন চাল, বিপাকে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলো সুপ্রিম কোর্টের ছুটির সংস্কৃতি বিচার ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে : অ্যাটর্নি জেনারেল পাবনায় হাসপাতালে প্রসবের পর দুই নবজাতকের মৃত্যু, অবহেলার অভিযোগ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণে শিল্পীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে : সংস্কৃতিমন্ত্রী বিনিয়োগ ও ব্লু ইকোনমি নিয়ে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা: মাহ্দী আমিন আন্দোলনের মাঝেই যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করল দিল্লি পুলিশ হুতিদের হামলায় আতঙ্কিত সৌদি যুবরাজ, বাংকারে আশ্রয়ের খবর লালমনিরহাটে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় আসামির যাবজ্জীবন অনিয়মিত অভিবাসন রোধে একযোগে কাজ করতে সম্মত বাংলাদেশ ও ইইউ তাজমিনের পোশাক ও মোবাইল পরীক্ষার জন্য যাচ্ছে সিআইডিতে

কাবার গিলাফ: শিল্প, সৌন্দর্য ও ইসলামী ঐতিহ্যের অনন্য নিদর্শন

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৬-১৮, | ১০:৫৬:৪৩ |

পবিত্র কাবাঘরের গিলাফ বা কিসওয়াহ শুধু একটি কাপড় নয়; এটি ইসলামী শিল্প, আধ্যাত্মিকতা এবং শতাব্দীব্যাপী ঐতিহ্যের এক অনন্য সমন্বয়। সোনা ও রুপার সুতা দিয়ে নির্মিত ‘সামাদিয়াত’ ও ‘কানাদিল’ মোটিফ কিসওয়াহকে দিয়েছে এক অতুলনীয় সৌন্দর্য, যা বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের হূদয়ে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার অনুভূতি জাগিয়ে তোলে।

কাবার গিলাফে ব্যবহূত প্রতিটি নকশা ইসলামী বিশ্বাস, শিল্পকলা ও আধ্যাত্মিক বার্তার বহন করে। কালো প্রাকৃতিক রেশমের ওপর সোনালি ও রুপালি সূচিকর্মের নিপুণ সমন্বয়ে কিসওয়াহ পরিণত হয়েছে এক অনন্য শিল্পকর্মে, যা ইসলামী সভ্যতার সৌন্দর্য ও শৈল্পিক উত্কর্ষের উজ্জ্বল প্রতিফলন।

কিসওয়াহর অন্যতম আকর্ষণীয় উপাদান হলো ‘সামাদিয়াত’ মোটিফ। খাঁটি ইসলামী শিল্পধারার অনুপ্রেরণায় তৈরি এই নকশাগুলো সোনা ও রুপার সুতা দিয়ে সূক্ষ্মভাবে এমব্রয়ডারি করা হয়। জ্যামিতিক ও ফুলেল অলংকরণে সমৃদ্ধ এসব মোটিফ কাবাঘরের চার কোণে বিশেষভাবে স্থাপন করা হয়। এর মধ্যে সুরা ইখলাসের মহান বাণী, ‘বলুন, তিনি আল্লাহ, এক। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী।’ সুন্দরভাবে সংযোজিত থাকে। ফলে তাওহিদের বার্তা শুধু শব্দেই নয়, শিল্পের ভাষাতেও জীবন্ত হয়ে ওঠে।

অন্যদিকে, কিসওয়াহর সূচিকর্ম করা বেল্টের নিচে ঝুলে থাকা ‘কানাদিল’ (লণ্ঠন) মোটিফ কাবার আচ্ছাদনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সৌন্দর্যবর্ধক উপাদান। এসব লণ্ঠনের মধ্যে মনোমুগ্ধকর আরবি ক্যালিগ্রাফিতে কোরআনের আয়াত ও বিভিন্ন ইসলামী বাক্যাংশ খোদাই করা থাকে। এগুলো একদিকে যেমন কাবাঘরের নান্দনিকতা বৃদ্ধি করে, অন্যদিকে তাওয়াফরত হাজি ও ওমরাহ পালনকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আধ্যাত্মিক অনুভূতিকে আরো গভীর করে তোলে।

কাবার গিলাফে ব্যবহূত এই শিল্পকর্মগুলো তৈরির পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ও অত্যন্ত সূক্ষ্ম একটি প্রক্রিয়া। প্রথমে দক্ষ শিল্পীরা জ্যামিতিক ও ক্যালিগ্রাফিক নকশা প্রস্তুত করেন। এরপর প্রিন্টিং, বয়ন, হাতে ও মেশিনে সূচিকর্ম এবং সর্বশেষ বিভিন্ন অংশে সংযোজনের মাধ্যমে কিসওয়াহর অলংকারগুলো সম্পূর্ণ করা হয়। প্রতিটি ধাপেই গুণগত মান ও নিখুঁত সৌন্দর্য নিশ্চিত করতে বিশেষ যত্ন নেওয়া হয়।

এই কাজের দায়িত্ব পালন করে ‘কিং আব্দুল আজিজ কমপ্লেক্স ফর দ্যা হলি কাবা কিসওয়া’-এর একদল দক্ষ কারিগর ও বিশেষজ্ঞ। তারা কালো রেশমি কাপড়ের ওপর সোনা ও রুপার প্রলেপযুক্ত সুতা ব্যবহার করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা শ্রম দিয়ে সামাদিয়াত ও কানাদিল মোটিফ তৈরি করেন। তাদের অসাধারণ দক্ষতা ও নিষ্ঠার ফলেই প্রতি বছর কিসওয়াহ নতুন রূপে বিশ্ববাসীর সামনে উপস্থাপিত হয়।

বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, এই আলংকারিক নকশাগুলো শুধু কাবাঘরের সৌন্দর্যই বৃদ্ধি করে না; বরং কোরআনের আয়াত ও ইসলামী বাণীগুলোকে আরও মর্যাদাপূর্ণভাবে তুলে ধরে। একই সঙ্গে তা মুসলিম উম্মাহর হূদয়ে বায়তুল্লাহর বিশেষ স্থান এবং ইসলামী শিল্প-ঐতিহ্যের সমৃদ্ধ ধারাকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পের সমন্বয়ে সৌদি আরব কিসওয়াহ তৈরির প্রতিটি ধাপে সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে চলেছে। এর ফলে কাবাঘরের আচ্ছাদন আজও ইসলামী শিল্পকলার মৌলিকত্ব, আধ্যাত্মিকতা এবং নান্দনিক জাঁকজমকের এক অনন্য বৈশ্বিক প্রতীক হিসেবে সমাদৃত হয়ে আছে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..