✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৬-১৭, | ১৩:৪৫:১০ |কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে ৬ মাস বয়সী এক শিশুসহ ৯ জন মানুষ টানা তিন দিন ধরে জিরো লাইনে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করলে বাধার মুখে তারা সীমান্তের শুন্যরেখা সংলগ্ন এলাকায় আটকা পড়ে যান।
সরেজমিনে গয়টাপাড়া সীমান্তে দেখা যায়, খোলা আকাশের নিচে সামান্য প্লাস্টিক টাঙিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন এক দম্পতি। তাদের সঙ্গে রয়েছে ৬ মাস বয়সী এক শিশু এবং আরও একটি ছোট সন্তান। একই স্থানে অবস্থান করছেন আরও কয়েকজন পুরুষ। প্রচণ্ড গরম ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তাদের।
স্থানীয়দের দাবি, সেখানে পর্যাপ্ত খাবার, বিশুদ্ধ পানি, গোসল কিংবা স্যানিটেশনের কোনো ব্যবস্থা নেই। মাঝে মধ্যে খাবার দেওয়া হলেও শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ নেই বলেই অভিযোগ তাদের।
ঘটনাস্থলের একদিকে রয়েছে ভারতীয় কাঁটাতারের বেড়া ও বিএসএফ ক্যাম্প, অন্যদিকে বাংলাদেশ সীমান্ত। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে থাকায় তারা কোনো দিকেই যেতে পারছেন না।
এ অবস্থাকে মানবিক ও মানবাধিকার সংকট হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। গয়টাপাড়া এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, একটি ৬ মাস বয়সী শিশুকে এভাবে রোদ-বৃষ্টির মধ্যে ফেলে রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দ্রুত মানবিক সমাধানের জন্য দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সীমান্তে গিয়ে তথ্য সংগ্রহকারী গণমাধ্যমকর্মী ওয়াহিদুজ্জামান তুহিনও ঘটনাটিকে মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, শিশুদের এ ধরনের পরিস্থিতিতে ফেলে রাখা কোনো সভ্য সমাজের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
জানা গেছে, গত রোববার সকালে গয়টাপাড়া ও ইজলামারী সীমান্ত এলাকায় মোট ৯ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার মুখে তারা সীমান্তের শুন্যরেখা সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান নিতে বাধ্য হন।
ঘটনার পরদিন বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি। পরিস্থিতি বিবেচনায় সীমান্ত এলাকায় টহল ও নজরদারি বাড়িয়েছে বিজিবি।
গয়টাপাড়া বিওপির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ঠেকাতে তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। তবে আটকে পড়া ব্যক্তিদের বিষয়ে এখনো দুই দেশের মধ্যে সমাধানের চেষ্টা চলছে।