মদিনায় শুরু হলো বহুল প্রতীক্ষিত খেজুরের মৌসুম

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৬-১৭, | ১০:৪৯:৪৩ |

বাগান থেকে মৌসুমের প্রথম খেজুর সংগ্রহের মধ্য দিয়ে ইসলামের পবিত্র নগরী মদিনায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে এ বছরের খেজুর মৌসুম। এরই মধ্যে মদিনার কেন্দ্রীয় খেজুর বাজার, নিলাম কেন্দ্র এবং আশপাশের কৃষি অঞ্চলে বেড়েছে কর্মচাঞ্চল্য। কৃষক, ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উত্সবমুখর পরিবেশ।

মদিনার পশ্চিমাঞ্চলীয় গ্রামসমূহ এবং ওয়াদি আল-সাফরা এলাকার বাগানগুলো থেকে প্রথম দফার খেজুর বাজারে আসতে শুরু করেছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সরবরাহ দ্রুত বৃদ্ধি পাবে এবং বাজার আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে।

এবারও বাজারে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে ‘রুথানা’ জাতের খেজুর। মদিনার বাসিন্দা ও আগত দর্শনার্থীদের কাছে এটি অন্যতম জনপ্রিয় ও কাঙ্ক্ষিত খেজুর হিসেবে পরিচিত। মাঝারি আকার, নরম গঠন এবং পরিমিত মিষ্টতার কারণে এই জাতের খেজুরের চাহিদা প্রতি বছরই থাকে তুঙ্গে। কৃষকরা জানিয়েছেন, জুন মাসের শেষ নাগাদ রুথানা খেজুর পূর্ণমাত্রায় পাকতে শুরু করবে এবং তখন বাজারে এর ব্যাপক সরবরাহ দেখা যাবে।

মৌসুমের শুরুতে সরবরাহ সীমিত থাকায় এবং চাহিদা বেশি হওয়ায় খেজুরের দাম তুলনামূলকভাবে উচ্চ অবস্থানে থাকে। তবে জুলাই মাসে বিভিন্ন জাতের খেজুর একসঙ্গে বাজারে আসতে শুরু করলে সরবরাহ বেড়ে যায় এবং দাম ধীরে ধীরে কমে আসে। ব্যবসায়ীদের ধারণা, ভরা মৌসুমে এক বাক্স রুথানা খেজুরের দাম নেমে মাত্র ১০ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এরপর আগস্ট মাসে মৌসুম শেষের দিকে এগোলে আবারও দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রুথানার পাশাপাশি মদিনার গ্রীষ্মকালীন খেজুরের মধ্যে ‘লোনা’ ও ‘রাবিয়া’ অন্যতম, যেগুলো সাধারণত মৌসুমের শুরুতেই বাজারে আসে। এছাড়া বড় আকার ও সুস্বাদু মিষ্টতার জন্য ‘বার্নি’ খেজুরও ব্যাপক জনপ্রিয়। অন্যদিকে ‘আজওয়া’ খেজুর তার বিশেষ মর্যাদা, ধর্মীয় গুরুত্ব এবং উচ্চ বাজারমূল্যের কারণে দেশি-বিদেশি ক্রেতাদের বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকে। এর বাইরে ‘সাফাওয়ি’ ও ‘হালিয়াহ’ জাতের খেজুরও বাজারে উল্লেখযোগ্য স্থান দখল করে আছে।

উচ্চ চাহিদার কারণে কৃষকরা বিশেষভাবে সতর্কতার সঙ্গে খেজুরের পরিপক্বতা ও গুণমান নিশ্চিত করে থাকেন। ফল সম্পূর্ণরূপে পাকার পরই সেগুলো সংগ্রহ করা হয়। এরপর বাগান থেকে সরাসরি বিক্রির পাশাপাশি দেশ-বিদেশে রপ্তানি এবং ব্যক্তিগত ক্রেতাদের জন্য প্যাকেটজাত করে বাজারজাত করা হয়।

প্রতিবছরের মতো এবারও মদিনার খেজুর জুন থেকে মৌসুম আগস্ট মাসের শেষ পর্যন্ত চলবে। এ সময় মদিনার অর্থনীতি, কৃষি খাত এবং স্থানীয় বাজারে নতুন প্রাণচাঞ্চল্যের সঞ্চার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..