✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৬-১০, | ১৮:৩২:০৫ |বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম অন্তত জুলাই মাস পর্যন্ত উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসন (ইআইএ)।
সংস্থাটির নতুন পূর্বাভাস অনুযায়ী, জুন ও জুলাই মাসজুড়ে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের গড় মূল্য ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০৫ ডলারে পৌঁছাতে পারে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ইআইএ জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় সরবরাহ সংকট আরও তীব্র হতে পারে। ফলে বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম বর্তমান প্রায় ৯১ ডলার এবং যুদ্ধ শুরুর আগের প্রায় ৭০ ডলারের তুলনায় অনেক বেশি অবস্থানে থাকবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী কয়েক সপ্তাহে তেল রফতানি সীমিত থাকবে এবং উৎপাদন ও মজুত কমে আসবে- এমন ধারণার ভিত্তিতেই এই মূল্য পূর্বাভাস তৈরি করা হয়েছে।
জ্বালানি বিশ্লেষকদের একাংশও একই ধরনের পূর্বাভাস দিয়েছেন। মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মরগানের মতে, হরমুজ প্রণালী চলতি মাসেই পুনরায় চালু হলেও তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ব্রেন্ট ক্রুডের গড় মূল্য ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০৪ ডলার থাকতে পারে।
ইআইএ’র এই পূর্বাভাস মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক দাবির সঙ্গে কিছুটা সাংঘর্ষিক। ট্রাম্প একাধিকবার বলেছেন, ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি সম্পন্ন হলে বিশ্ববাজারে তেল ও জ্বালানির দাম দ্রুত কমে যাবে। তিনি বারবার দাবি করেছেন, এমন একটি চুক্তি খুব শিগগিরই হতে যাচ্ছে। তবে সরকারি পূর্বাভাসে এখনও উচ্চমূল্যের ইঙ্গিতই দেওয়া হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি মূল্য নিয়েও নতুন পূর্বাভাস প্রকাশ করেছে ইআইএ। সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৬ সালে দেশটিতে গ্যাসোলিনের গড় মূল্য প্রতি গ্যালন ৩ দশমিক ৯০ ডলার এবং পরের বছর ৩ দশমিক ৬৪ ডলার হতে পারে। মে মাসে প্রকাশিত পূর্ববর্তী প্রতিবেদনের তুলনায় এই পূর্বাভাস সামান্য বেশি।
তবে ইআইএ বলছে, বৈশ্বিক চাহিদা কিছুটা কমে যাওয়ায় জ্বালানির দাম আরও বেশি বাড়েনি। উচ্চমূল্যের কারণে ভোক্তাদের মধ্যে ব্যয় কমানো, জ্বালানির সীমিত প্রাপ্যতা এবং এশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানি সাশ্রয়ী উদ্যোগ গ্রহণের ফলে চাহিদা কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ তেল উৎপাদনের পূর্বাভাসও সামান্য বাড়ানো হয়েছে। নতুন হিসাব অনুযায়ী, দেশটির দৈনিক তেল উৎপাদন ১ কোটি ৩৭ লাখ ব্যারেলে পৌঁছাতে পারে। এর আগে ইআইএ উৎপাদন প্রায় অপরিবর্তিত থেকে দৈনিক এক কোটি ৩৬ লাখ ব্যারেল থাকবে বলে ধারণা দিয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীতে চলমান অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন চাপ সৃষ্টি হতে পারে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন হয়। ফলে এ অঞ্চলে যেকোনও সামরিক উত্তেজনা বা পরিবহন সংকট আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্য আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। সূত্র: সিএনএন