ঈদুল আজহার ছুটি ও টানা কয়েক দিনের বৃষ্টির কারণে রাজধানী ঢাকার বায়ুমানে সাময়িক উন্নতি দেখা দিয়েছিল। বৃষ্টিতে ধুলাবালি ধুয়ে যাওয়ায়, সড়কে যানবাহনের চাপ কম থাকায় এবং নির্মাণকাজ আংশিকভাবে বন্ধ থাকায় নগরবাসী কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিলেন। তবে বৃষ্টির প্রভাব কমে আসার সঙ্গে সঙ্গে সেই স্বস্তিও ফিকে হতে শুরু করেছে; আবারও বাড়ছে বায়ুদূষণের মাত্রা।
বুধবার (৩ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) ছিল ৯৪। এই স্কোর অনুযায়ী বিশ্বের দূষিত প্রধান শহরগুলোর তালিকায় ঢাকার অবস্থান ১২তম। বায়ুর মান বর্তমানে ‘মাঝারি’ পর্যায়ে রয়েছে।
দূষণের এ তালিকায় ২৬৯ স্কোর নিয়ে প্রথম স্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর। দ্বিতীয় স্থানে থাকা গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের রাজধানী কিনসাসার স্কোর ২১৪, তৃতীয় স্থানে ভারতের দিল্লির স্কোর ১৫৭ এবং চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা, যার স্কোর ১৪৪। এছাড়াও পঞ্চম স্থানে রয়েছে চিলির সান্তিয়াগো, স্কোর ১৩৭।
একিউআই মান অনুযায়ী, ৫০ থেকে ১০০ স্কোর থাকলে তখন বায়ুর গুণমানকে ‘মাঝারি’ বলে বিবেচনা করা হয়। একিউআই সূচক ১০১ থেকে ১৫০ এর মধ্যে হলে ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ সময় সাধারণত সংবেদনশীল ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় ধরে বাইরে পরিশ্রম না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। ১৫১ থেকে ২০০ এর মধ্যে হলে ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়, ২০১ থেকে ৩০০ এর মধ্যে হলে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলে মনে করা হয়। এ ছাড়া ৩০১ এর বেশি হলে ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে বিবেচিত হয়, যা বাসিন্দাদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করে।
ঈদে রাজধানীতে যানবাহন ও নির্মাণকাজ কমে যাওয়া এবং অধিক পরিমাণে বৃষ্টি হওয়াতে বায়ুদূষণের মাত্রা তাৎক্ষণিকভাবে কমে এসেছিলো। টানা বৃষ্টিতে ধুলাবালিও কমে গেছে, যার ফলে আজ মেগাসিটি ঢাকার বাতাস সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। তবে আবহাওয়া শুষ্ক হলে এবং যানবাহন ও নির্মাণকাজ স্বাভাবিক গতিতে ফিরলে দূষণের মাত্রাও আবার বাড়তে শুরু করবে। যদিও গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে সাধারণত বৃষ্টির কারণে দূষণ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকে, তবু নগরায়ণ, যানবাহনের ধোঁয়া এবং নির্মাণকাজের ধুলা ঢাকার দীর্ঘমেয়াদি বায়ুদূষণের প্রধান কারণ হিসেবে রয়ে গেছে।
সুতরাং, বাতাস আপাতত সহনীয় পর্যায়ে থাকলেও দূষণের ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি। বিশেষ করে যাদের শ্বাসতন্ত্রজনিত সমস্যা রয়েছে, তাদের বাইরে বের হওয়ার সময় প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চলাই শ্রেয়।
এ জাতীয় আরো খবর..