✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৬-০১, | ১৪:৩৬:০৪ |নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক মহল ও সীমান্ত বিশেষজ্ঞদের মধ্যে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্কের ঝড় উঠেছে। এত দিন চুপ থাকার পর অবশেষে রবিবার সংসদে মুখ খোলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু সীমান্ত ইস্যুতে তার দেওয়া বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিতর্কিত লিপুলেখ, লিম্পিয়াধুরা ও কালাপানি অঞ্চল নিয়ে সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, কেবল ভারতই নয়, নেপালও ভারতের বেশ কিছু অঞ্চল ‘দখল’ করে রেখেছে। তার এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরপরই সংসদে তুমুল হট্টগোল শুরু হয় এবং বিরোধী দলগুলো এই বক্তব্য সংসদীয় রেকর্ড থেকে মুছে ফেলার দাবি জানায়।
প্রধানমন্ত্রী শাহ সংসদে বলেন, বিষয়টি আপনাদের কাছে অদ্ভুত লাগতে পারে, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর আমিও সম্প্রতি জানতে পেরেছি যে, শুধু ভারত নয়, নেপালও অনেক জায়গায় ভারতীয় ভূখণ্ড দখল করে রেখেছে।
তার এই মন্তব্যকে সম্পূর্ণ ‘প্রযুক্তিগতভাবে ভুল’ এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে আখ্যা দিয়েছেন নেপালের সাবেক কূটনীতিক এবং সীমান্ত বিশেষজ্ঞরা। তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, নেপাল রাষ্ট্রগতভাবে কখনোই ভারতের কোনো জমি দখল করেনি। মূলত নদী অববাহিকার গতিপথ পরিবর্তন এবং সীমান্ত পিলার হারিয়ে যাওয়ার কারণে দুই দেশের সীমান্ত-সংলগ্ন ‘দশগজা’ বা নো-ম্যানস ল্যান্ডে এক দেশের নাগরিক অন্য দেশের জমিতে চাষাবাদ বা বসবাস করছেন, যা ‘ক্রস-বর্ডার অকুপেশন’ বা পারস্পরিক জমি ব্যবহারের আওতাভুক্ত; কিন্তু একে কোনোভাবেই রাষ্ট্রীয় ‘দখলদারত্ব’ বলা যায় না।
এই সীমান্ত বিরোধ চিরতরে সমাধানের লক্ষ্যে নেপাল সরকার ইতোমধ্যেই দিল্লি ও বেইজিংয়ের কাছে কূটনৈতিক নোট পাঠিয়েছে এবং ১৮১৬ সালের সুগৌলি চুক্তির সূত্র ধরে ব্রিটিশ সরকারেরও মধ্যস্থতা চেয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
তবে এই মন্তব্য নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হওয়ায় এবং রাষ্ট্রীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ন হওয়ার অভিযোগ ওঠায় পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’ মোডে নেমেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে যে, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য ছিল দুই দেশের নাগরিকদের সীমান্ত পেরিয়ে জমি চাষের প্রযুক্তিগত বাস্তবতাকে বোঝানো, কোনো রাষ্ট্রীয় ভূখণ্ড দখল নয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নেপালি নাগরিকদের একাংশের জমি ভারতের দিকে এবং ভারতীয়দের জমি নেপালের দিকে পড়ে থাকার এই সংবেদনশীল বিষয়টিকে ভুল শব্দচয়নে উপস্থাপন করে প্রধানমন্ত্রী নিজেই এখন ঘরে-বাইরে তীব্র চাপের মুখে পড়েছেন।
সূত্র: দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট