রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে এই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হলো।
সোমবার (১ জুন) ঢাকা শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইবুনালের বিচারক মাশরুর সালেহীন দুই আসামির উপস্থিতিতে এই অভিযোগ গঠন করেন। একই সঙ্গে আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেন আদালত।
এর আগে, সকাল পৌনে আটটার দিকে প্রিজন ভ্যানে আসামিদের আদালতে আনা হয়। বেলা ১১টা ১০ মিনিটে কোর্ট বসলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অভিযোগটি পড়ে শোনান। পরে বিচারক আসামিদের কাছে জানতে চান তারা দোষী নাকি নির্দোষ। এ সময় আসামিরা নিজেদেরকে নির্দোষ দাবি করে ন্যায় বিচার প্রার্থনা করেন। এ সময় আসামি পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলুসহ অন্যান্য আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর হত্যায় সহায়তা করার অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া এই মামলায় ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
গত ১৯ মে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পল্লবীর একটি ভবনের তিনতলার ফ্ল্যাট থেকে শিশুটির খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা ওই ফ্ল্যাটের শৌচাগারের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান। তবে ওই বাসা থেকে তার স্ত্রীকে তখনই আটক করা হয়। আর ওই দিনই সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার পরদিন শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন। ২০ মে বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দেন আসামি সোহেল রানা। জবানবন্দিতে শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যার কথা স্বীকার করেন তিনি।
এ জাতীয় আরো খবর..