✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-৩০, | ১৮:৩৪:২৬ |যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ‘Aliens.gov’ নামে ভিন্নধর্মী একটি ওয়েবসাইট চালু করেছে। প্রথম দেখায় সাইটটিকে মহাকাশের ভিনগ্রহী বা এলিয়েন সংক্রান্ত কোনো তথ্য প্রকাশের মাধ্যম মনে হলেও একটু স্ক্রল করলেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে এখানে এলিয়েন বলতে আসলে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে প্রবেশ করা বিদেশি নাগরিকদের বোঝানো হয়েছে।
মহাকাশের আবহে তৈরি এই অভিবাসন বিষয়ক ওয়েবসাইটে একটি বিশেষ ইউএস ম্যাপ যুক্ত করা হয়েছে, যার মাধ্যমে তথাকথিত 'এলিয়েনদের' গ্রেফতারের তথ্য ট্র্যাক করা যাবে। হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ডেটা বা তথ্য প্রতিনিয়ত আপডেট করা হবে এবং এটি হোয়াইট হাউজের অফিশিয়াল অ্যাপেও যুক্ত থাকবে।
ওয়েবসাইটটিতে রহস্যময় সবুজ রঙে লেখা হয়েছে, গত ৬০ বছর ধরে মার্কিন সরকার একটি অত্যন্ত গোপন বিষয় চেপে রেখেছে। সেখানে দাবি করা হয়, লাখ লাখ এলিয়েন রাতের অন্ধকারে এসে আমাদের সমাজে মিশে গেছে এবং বিগত দিনের প্রেসিডেন্ট ও সরকারি কর্মকর্তারা বিষয়টি জেনেও তা ধামাচাপা দিয়েছেন।
তবে সাইটটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কেবল একজন মানুষই এই সত্যটি প্রকাশ করার সাহস দেখিয়েছেন এবং তিনি হলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যিনি মার্কিন নাগরিকদের সুরক্ষায় এই অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। ওয়েবসাইটের শেষ অংশে রসাত্মক ও কড়া ভাষায় বলা হয়েছে, কেউ যদি কোনো এলিয়েন অপহরণের ঘটনা দেখেন তবে যেন আতঙ্কিত না হন, কারণ সেই এলিয়েনকে নিরাপদ হেফাজতে নেওয়া হচ্ছে এবং তাকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। এছাড়া সন্দেহভাজনদের তথ্য দিতে সাইটটিতে একটি বিশেষ 'টিপ বক্স'-ও রাখা হয়েছে।
এদিকে হোয়াইট হাউজের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। আমেরিকান ইমিগ্রেশন কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ডিটেনশন সেন্টারগুলোতে প্রায় ৭৩ হাজার মানুষকে বন্দি রাখা হয়েছে। সংস্থাটি সরকারের এমন প্রচারণার বিরোধিতা করে ডিটেনশন সেন্টারগুলোতে বন্দিদের ওপর চলা পদ্ধতিগত অবহেলা ও নির্যাতনের অভিযোগ সামনে এনেছে।
উল্লেখ্য, গত বছর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী গ্রেফতার ও বিতাড়নের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে এবং চলতি বছরের জানুয়ারিতে মিনিয়াপলিসে এমনই এক বিক্ষোভ চলাকালীন আইসিই (ICE) এজেন্টদের গুলিতে রেনি গুড এবং অ্যালেক্স প্রেটি নামে দুই আন্দোলনকারী নিহত হওয়ার পর থেকে এই বিতর্ক আরও তুঙ্গে উঠেছে।