জাপানের ঐতিহ্যবাহী কানজি হরফের আকৃতিতে তৈরি একটি ব্যতিক্রমী আইসক্রিম দেশটির বাজারে বেশ সাড়া ফেলছে।
মাত্র দুই সপ্তাহ আগে বাজারে আসা আইসক্রিমটি দেখতে এবং এর স্বাদ নিতে দোকানগুলোতে স্থানীয় ক্রেতা ও পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এটি এখন বেশ জনপ্রিয়।
টোকিওর পার্শ্ববর্তী কানাগাওয়া প্রিফেকচারের ঐতিহাসিক কামাকুরা এলাকায় ‘কানজি আইস’ নামের একটি বিশেষ দোকানে আইসক্রিমটি প্রথম বিক্রি শুরু হয়। ১ মে জাপানে গোল্ডেন উইক শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে দোকানটি চালু করা হয়। উদ্বোধনের পর থেকেই ক্রেতাদের চাহিদা এত বেশি ছিল যে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই বিভিন্ন ফ্লেভারের আইসক্রিম সম্পূর্ণ বিক্রি হয়ে যায়।
এ আইসক্রিম জনপ্রিয় হওয়ার পেছনে দুটি প্রধান কারণ রয়েছে। প্রথমত, এর আকর্ষণীয় বাহ্যিক রূপ। ক্রাঞ্চি রিচ চকোলেট, ক্রিস্পি স্ট্রবেরি ও চিউই মিল্ক—এ তিন ফ্লেভারের আইসক্রিম জাপানি লিপির আকৃতিতে তৈরি। এগুলো দিয়ে ‘কামাকুরা’, ‘জাপান’ ও ‘নিনজা’ শব্দগুলো ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
দ্বিতীয় কারণটি হলো এগুলো তৈরির কৌশল। আইসক্রিমটি তৈরিতে বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা এটিকে সহজে গলতে দেয় না। সাধারণ তাপমাত্রায় রাখার পরও এটি ৩০ মিনিটের বেশি সময় ধরে পুরোপুরি শক্ত থাকে। স্ট্রবেরি থেকে নেয়া ‘পলিফেনল’ নামের একটি প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহারের কারণে আইসক্রিমটি সহজে গলে যায় না। ফুললাইফ নামের একটি জাপানি প্রতিষ্ঠান এ প্রযুক্তির পেটেন্ট বা স্বত্বাধিকারী।
সহজে না গলার কারণে পর্যটকরা কোনো ঝামেলা ছাড়াই এটি হাতে নিয়ে ঘুরে বেড়াতে পারছেন এবং বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানের সামনে ছবি তুলতে পারছেন। কামাকুরায় সফলতার পর এখন কিয়োটোর সাঙ্গা স্টেডিয়াম, শিজুওকা প্রিফেকচারের জেআর শিন-ফুজি স্টেশন এবং ইয়ামানাশি প্রিফেকচারের ফুজি শিবাজাকুরা উৎসবেও এ আইসক্রিম বিক্রি হচ্ছে। ফুজি পর্বতের জন্য তৈরি বিশেষ আইসক্রিমটিতে ‘মাউন্ট ফুজি’ কানজি লিপি ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন করপোরেট অনুষ্ঠানের জন্য কাস্টমাইজড আইসক্রিম তৈরির সুবিধাও দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
খবর ও ছবি জাপান টুডে
এ জাতীয় আরো খবর..