সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউইএ) বিখ্যাত দুবাই মলে চালু হয়েছে ‘রিডলস’ নামের একটি ভিন্নধর্মী ক্যাফে।
রূপকথার থিমে তৈরি এই ক্যাফেটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সঙ্গে রান্নাকলার এক অপূর্ব সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। ক্যাফেটির প্রতিষ্ঠাতা গ্রিক শেফ আলেকজান্দ্রোস স্পারক্সোস। এখানে এআই দিয়ে তৈরি চমৎকার সব খাবারের কাল্পনিক ছবিকে বাস্তবে রূপ দিয়ে ক্রেতাদের সামনে পরিবেশন করা হয়। দুবাই মলের জাবিল এক্সটেনশনে অবস্থিত এ ক্যাফেটি এরই মধ্যে দর্শনার্থীদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে।
ক্যাফেটিতে রয়েছে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে অর্ডার করার ব্যবস্থা। টেবিলে বসার পর গ্রাহকেরা একটি কিউআর কোড স্ক্যান করে তাদের স্মার্টফোনে মেনু দেখতে পান। এ মেনু সাধারণ তালিকার মতো নয়, বরং এটি দেখতে একটি ডিজিটাল রূপকথার গল্পের বইয়ের মতো, যেখানে এআই দিয়ে তৈরি আকর্ষণীয় খাবারের ছবি দেয়া থাকে। গ্রাহকেরা চাইলে তাদের স্বাস্থ্যের অবস্থা, অ্যালার্জি বা পছন্দের কথা অ্যাপে জানাতে পারেন। সেই অনুযায়ী প্রযুক্তিটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদের জন্য সবচেয়ে ভালো খাবারটি বেছে নিতে সাহায্য করে।
শেফ আলেকজান্দ্রোস স্পারক্সোস জানান, মানুষ প্রথমে চোখ দিয়ে খাবার উপভোগ করে—এ ভাবনা থেকেই ক্যাফেটির জন্ম। অনেকেই মনে করতে পারেন যে কম্পিউটারে তৈরি নিখুঁত একটি ছবিকে বাস্তবে প্লেটে নামিয়ে আনা বেশ কঠিন। তবে শেফ জানান, এআই দিয়ে তৈরি ছবিগুলো আসলে তাদের রান্নার দলকে খাবার সাজানোর ক্ষেত্রে সাহায্য করে। ফলে শেফরা খাবারের সাজসজ্জা নিয়ে বেশি সময় নষ্ট না করে, সেটির স্বাদ ও গুণগত মান বাড়াতে পুরোপুরি মনোযোগ দিতে পারেন।
ক্যাফেটির খাবারের তালিকায় সকালের নাশতা, দুপুরের খাবার, রাতের খাবার ও নানা পদের মিষ্টি রয়েছে। এখানকার জনপ্রিয় খাবারের মধ্যে রয়েছে ভ্যানিলা বিন ও গোজি বেরি ক্রিম ভরা রাস্পবেরি ক্রসোঁ এবং গ্রিক বাদাম দিয়ে তৈরি আলমন্ড ক্রসোঁ। প্রধান খাবারের মধ্যে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী গ্রিক অলিভ অয়েল ও ওরেগানো দিয়ে সেঁকা তাজা রুটি, টমেটো দিয়ে বুরাটা সালাদ এবং টেরিয়াকি সসে রান্না করা স্যামন। এখানকার মিষ্টি বা ডেজার্টগুলো মূলত রূপকথা থেকে অনুপ্রাণিত। যেমন এখানকার ব্ল্যাক ফরেস্ট কেকটি দেখতে হুবহু একটি গাছের গুঁড়ির মতো। এটি চকোলেট মুস ও চেরি কম্পোট দিয়ে তৈরি। আরেকটি আকর্ষণীয় মিষ্টি হলো স্ট্রবেরি ফরেস্ট ফ্রেসিয়ার, যা দেখতে অনেকটা ‘অ্যালিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড’ গল্পের মাশরুমের মতো। এর ওপরের অংশটি তৈরি প্যাভলোভা এবং নিচের অংশটি সাজানো হয়েছে খাওয়ার উপযোগী চকোলেট মাটি দিয়ে।
খাবারের পাশাপাশি এ ক্যাফেতে রয়েছে একটি বিশেষ জাদুঘর, যা ‘রিডলস মিউজিয়াম’ নামে পরিচিত। আলাদা টিকিট কেটে এ জাদুঘর ঘুরে দেখা যায়। এটি সবার জন্য উন্মুক্ত।
এখানে ডিজিটাল আর্ট, আলো ও শব্দের জাদুকরী আবহে আরব্য রূপকথা ও বিশ্বের বিভিন্ন জনপ্রিয় গল্পকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। শিশুরা এখানে এসে বিভিন্ন কাল্পনিক চরিত্রের সঙ্গে খেলার সুযোগ পাবে।
ক্যাফেটি প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত খোলা থাকে। তবে সপ্তাহের ছুটির দিনগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় সামলাতে এটি রাত ১টা পর্যন্ত খোলা রাখা হয়। প্রযুক্তি ও রূপকথার এ চমৎকার মেলবন্ধন সব বয়সী মানুষের কাছে ক্যাফেটিকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
দ্য ন্যাশনাল অবলম্বনে
এ জাতীয় আরো খবর..