যে দেশে মানুষ ‘রোলেক্স’ হাতে পরে না, খায়

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-২৯, | ১২:১৪:২৪ |
সাধারণত ‘রোলেক্স’ নামটা শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে একটি নামি ব্র্যান্ডের দামি হাতঘড়ি।

কিন্তু পূর্ব আফ্রিকার দেশ উগান্ডায় রোলেক্স কোনো ঘড়ির নাম নয়, বরং সেখানে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি খাবারের নাম। দেশটিতে একটি প্রচলিত কথা আছে, ‘উগান্ডার মানুষ রোলেক্স হাতে পরে না, তারা রোলেক্স খায়।’

উগান্ডার জাতীয় খাবার হিসেবে পরিচিত সাধারণ পথখাবার বা স্ট্রিট ফুডটির নাম কীভাবে রোলেক্স হলো, তারও একটি ইতিহাস আছে।

‘এমানুয়েল জোনাথন ওকেলো’ নামের এক রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী জানান, খাবারটি তৈরি হয় ডিম ও ভারতীয় চাপাতি (এক ধরনের রুটি) দিয়ে। মূলত এটি ইংরেজি ‘রোল্ড এগ’ (মোড়ানো ডিম) শব্দ থেকে এসেছে। প্রথম দিকে যারা এটি তৈরি করতেন, তারা চাপাতির ভেতর অমলেট বা ডিম ভাজি দিয়ে সেটি গোল করে মুড়িয়ে দিতেন। এ রোল্ড এগ কথাটি বলতে বলতেই একসময় খাবারটির নাম হয়ে যায় রোলেক্স।

গত শতাব্দীর শুরুতে ব্রিটিশরা রেলপথ তৈরির জন্য ভারতীয় শ্রমিকদের উগান্ডায় নিয়ে যায়। তাদের হাত ধরেই সেখানে চাপাতি বা রুটি খাওয়ার চল শুরু হয়। ধীরে ধীরে কেনিয়ার সীমান্তসংলগ্ন বুসোগা এলাকায় ভারতীয় খাবার দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

পরবর্তী সময়ে উগান্ডার মানুষ চাপাতিকে নিজেদের মতো তৈরি করে নেয়। তারা খাবারটি সাধারণ রুটির চেয়ে কিছুটা নরম ও চারপাশটা মচমচে করে বানায়। দেখতে এটি ভারতের পরোটার মতো হলেও তৈরিতে ময়দা, লবণ, গরম পানি ও সামান্য তেল ব্যবহার করা হয়।

যেভাবে হলো জাতীয় খাবার
শুরুর দিকে উগান্ডার পূর্বাঞ্চলের দিনমজুরদের সস্তা খাবার ছিল রোলেক্স। তবে এটি জাতীয় খাবারে রূপ নেয়ার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। উগান্ডার রাস্তায় একটি রোলেক্সের দাম মাত্র ২০ সেন্ট। কম খরচে পেট ভরানোর জন্য শিক্ষার্থীদের কাছে এর চেয়ে ভালো খাবার আর ছিল না। এভাবেই সাধারণ দিনমজুরদের খাবার থেকে এটি শহরের আধুনিক ক্যাফে ও ট্রেন্ডি রেস্তোরাঁগুলোয় জায়গা করে নেয়।

রোলেক্সের নানা স্বাদ
ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে প্রথমে ডিম ফেটিয়ে পাতলা অমলেট তৈরি করা হয়। এরপর সেই অমলেট চাপাতির ওপর বিছিয়ে দেয়া হয়। ওপরে বাঁধাকপি ও টমেটো ছিটিয়ে পুরোটা একসঙ্গে মুড়িয়ে বা রোল করে পরিবেশন করা হয়। তবে বর্তমানে এর স্বাদে অনেক বৈচিত্র্য এসেছে।

ব্যবসায়ী ওকেলো জানান, তিনি নীল নদের অববাহিকার একটি পর্যটন শহরে ঘুরতে গিয়ে প্রথম দেখেন এক বিক্রেতা রোলেক্সের ভেতর গরুর ভুঁড়ি বা চর্বি দিচ্ছেন। সেই থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি তার রেস্তোরাঁয় গরুর মাংসের সসেজ, চিকেন গ্রেভি, কারি, বেকন, অ্যাভোকাডো ও কিমা দিয়ে কয়েক রকমের রোলেক্স তৈরি শুরু করেন। যারা সবকিছুর স্বাদ একসঙ্গে নিতে চান, তাদের জন্য রয়েছে বিশেষ ‘শেফ স্পেশাল রোলেক্স’।

সিএনএন অবলম্বনে

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..