✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-২৯, | ১১:৩১:১৫ |ইরাকে মিসাইল হামলায় নিহত বাংলাদেশি রেমিট্যান্সযোদ্ধা মোহাম্মদ শ্রাবনের মরদেহ আজ দেশে ফিরেছে। শুক্রবার ভোরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিহতের মরদেহ এসে পৌঁছালে সরকারের পক্ষ থেকে তা আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ইসলাম ওবায়েদ।
আজ ভোর ৫টা ১৫ মিনিটে তার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে মরদেহটি ঢাকার রানওয়ে স্পর্শ করে। এ সময় বিমানবন্দরে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ইসলাম ওবায়েদ নিহতের প্রতি গভীর শোক ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং সেখানে উপস্থিত পরিবারের সদস্যদের বুকে টেনে নিয়ে সমবেদনা জানান। সরকারের পক্ষ থেকে দাফন-কাফনের জরুরি খরচ হিসেবে নিহতের স্বজনদের হাতে ৩৫ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তাও তুলে দেন প্রতিমন্ত্রী।
নিহত মোহাম্মদ শ্রাবন মুন্সিগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার বকুলতলা গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ নলি মিয়ার সন্তান। দীর্ঘ ১০ বছর আগে পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে এবং জীবিকার সন্ধানে ইরাকের বাগদাদে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। সম্প্রতি বাগদাদে সংঘাতের সময় নিক্ষিপ্ত একটি মিসাইলের আঘাতে তার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। তার এই অকাল প্রয়াণে গভীর দুঃখ প্রকাশ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, রেমিট্যান্সযোদ্ধাদের এমন মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং সরকার সবসময় এই প্রবাসী পরিবারগুলোর পাশে থাকবে।
বাগদাদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও সরকারি প্রক্রিয়ায় এই প্রবাসীর মরদেহ দ্রুত দেশে আনা সম্ভব হয়েছে। এর আগে গত ২৫ মে বাগদাদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) পারভেজ আলম চৌধুরী দাপ্তরিক চিঠির মাধ্যমে মরদেহ দেশে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন। সেই অনুযায়ী গত ২৭ মে বাগদাদ বিমানবন্দর থেকে তার্কিশ এয়ারলাইন্সের 'টিকে-০৮৪৩' ফ্লাইটে মরদেহটি রওনা হয়। এরপর তুরস্কে দীর্ঘ ট্রানজিট শেষে আজ সকালে মরদেহবাহী বিমানটি ঢাকায় অবতরণ করে। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহটি তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং আজই তার নিজ গ্রামে দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।