যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ সংস্থাটি জানিয়েছে, ভবিষ্যতে চাঁদে মানব উপস্থিতি স্থায়ী করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রোবোটিক ল্যান্ডার, ‘হপিং ড্রোন’ এবং বিশেষ যান পাঠানো হবে।
এই প্রকল্পে একাধিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের মহাকাশ কোম্পানি 'ব্লু অরিজিন'ও।
যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য, ২০২৮ সালের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আবারও চাঁদে আমেরিকান নভোচারী অবতরণ করানো।
তবে এই লক্ষ্য অর্জনের দৌড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রতিদ্বন্দ্বী চীন। দেশটি ২০৩০ সালের মধ্যে নিজস্বভাবে চাঁদে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে।
এরই মধ্যে সোমবার (২৫ মে) চীন তাদের 'শেনঝৌ-২৩' মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করেছে, যার মাধ্যমে তিয়ানগং স্পেস স্টেশনে নতুন নভোচারী দল পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে, গত মার্চে নাসা জানায়, চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে ২০৩২ সালের মধ্যে পারমাণবিক ও সৌরশক্তি নির্ভর একটি স্থায়ী ঘাঁটি নির্মাণে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) নাসার অ্যাডমিনিস্ট্রেটর জ্যারেড আইজ্যাকম্যান বলেন, এই পরিকল্পনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র চাঁদ নিয়ে গবেষণায় আরও এগিয়ে যাবে।
এই ঘাঁটি নির্মিত হলে সেখানে বৈজ্ঞানিক গবেষণা চালানো যাবে, মূল্যবান সম্পদ অনুসন্ধান করা সম্ভব হবে এবং ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে যাত্রাও সহজ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, নাসার এই সময়সূচি বাস্তবসম্মত নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপোলো-পরবর্তী নতুন চন্দ্র অভিযান 'আর্টেমিস-২' সফল হলেও, বিজ্ঞানীদের একাংশের মতে চীনই প্রথম দেশ হতে পারে যারা আবারও চাঁদে মানুষ অবতরণ করাবে।
ইউনিভার্সিটি অব ওপেনের লুনার সায়েন্টিস্ট ড. সিমিওন বার্বার বলেন, নাসা এখনো চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে এবং তাদের ল্যান্ডিং প্রযুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় চীন এগিয়ে যেতে পারে।
নাসার 'ইগনিশন মুন বেস' প্রকল্প তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম ধাপে রোবটিক ল্যান্ডার ও ড্রোন পাঠিয়ে চাঁদের দুর্গম এলাকা ম্যাপিং ও অনুসন্ধান করা হবে।
এরপর চালকবিহীন যান পাঠানো হবে, যা নভোচারীদের চাঁদের পৃষ্ঠে চলাচল ও যোগাযোগে সহায়তা করবে।
তৃতীয় ধাপে সেখানে পারমাণবিক ও সৌর শক্তিচালিত অবকাঠামো, এমনকি ফিশন রিঅ্যাক্টর স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
নাসা আশা করছে, ২০৩২ সালের মধ্যে চাঁদে 'আংশিক স্থায়ী' আবাসনে মানুষ বসবাস করতে পারবে।