✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-২৭, | ১৩:১০:১২ |কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহে পবিত্র ঈদুল আজহার জামাতের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে প্রশাসন। জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৯টায়। এতে ইমামতি করবেন কিশোরগঞ্জ শহরের বড় বাজার জামে মসজিদের খতিব মুফতি আবুল খায়ের মো. ছাইফুল্লাহ। এটি শোলাকিয়া ঈদগাহের ১৯৯তম ঈদুল আজহার জামাত।
সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ঈদজামাত আয়োজনের লক্ষ্যে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। শোলাকিয়ার ঐতিহ্য অনুযায়ী শটগানের গুলি ফুটিয়ে জামাত শুরু করা হবে।
মাঠে দাগ কাটা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সিসি ক্যামেরা স্থাপন, বিদ্যুৎ সংযোগ, ওজুখানা, পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থাসহ সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস ও মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা একাধিকবার মাঠ পরিদর্শন করেছেন।
র্যাব-১৪-এর কোম্পানি কমান্ডার মোহাম্মদ নোমান জানিয়েছেন, পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজানো হয়েছে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ধরনের শঙ্কা নেই। প্রত্যেক মুসল্লিকে তল্লাশি করে মাঠে প্রবেশ করানো হবে। এ জন্য ৩১টি চেকপোস্ট ও ৭টি আর্চওয়ে গেট স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া থাকবে ৫০টি মেটাল ডিটেক্টর, ড্রোন, সিসি ক্যামেরা ও বোম ডিসপোজাল টিম। ঈদগাহ ও আশপাশের এলাকায় ৬১৬ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবেন।
জেলা প্রশাসক ও শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন জানান, ঈদজামাত আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ঈদের দিন ঈদগাহ ও আশপাশের এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকবে। বিপুল সংখ্যক পুলিশ, র্যাব ও আনসার সদস্যের পাশাপাশি দুই প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন থাকবে। দায়িত্ব পালন করবেন কয়েকজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটও। নিরাপত্তার স্বার্থে মুসল্লিদের জায়নামাজ ও মোবাইল ফোন ছাড়া অন্য কিছু বহন না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
দূর-দূরান্তের মুসল্লিদের সুবিধার্থে ঈদের দিন দুটি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একটি ট্রেন ভৈরব থেকে সকাল ৬টায় এবং অপরটি ময়মনসিংহ থেকে ভোর সাড়ে ৫টায় কিশোরগঞ্জের উদ্দেশে ছেড়ে আসবে। জামাত শেষে বেলা ১২টায় ট্রেন দুটি কিশোরগঞ্জ স্টেশন থেকে ছেড়ে যাবে।
বেশি মুসল্লির সঙ্গে নামাজ আদায় করলে বেশি সওয়াব হয়—এ বিশ্বাসে প্রতি বছর দূর-দূরান্ত থেকে মুসল্লিরা শোলাকিয়ায় ছুটে আসেন। তবে দেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী এ ঈদগাহে তেমন উন্নয়ন হয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। সামান্য বৃষ্টিতেই মাঠে পানি জমে যায়। তাই ঈদগাহকে আরও সুন্দর ও আকর্ষণীয় করে গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন তারা।
১৮২৮ সালে ঈদজামাতের মধ্য দিয়ে শোলাকিয়া ঈদগাহের যাত্রা শুরু হয়। জনশ্রুতি রয়েছে, শাহ সুফি সৈয়দ আহমদের ইমামতিতে প্রথম ঈদের জামাতে সোয়া লাখ মুসল্লি অংশ নেন। আবার কারও মতে, এ পরগণায় খাজনা আদায়ের পরিমাণ ছিল সোয়া লাখ টাকা। সেখান থেকেই ‘শোয়ালাখিয়া’ নামটি পরিবর্তিত হয়ে ‘শোলাকিয়া’ হয়েছে।
মসনদ-ই-আলা ঈশা খাঁর ষষ্ঠ বংশধর শহরের হয়বতনগরের দেওয়ান মান্নান দাদ খাঁ ১৯৫০ সালে ঈদগাহের জন্য ৪ দশমিক ৩৫ একর জমি ওয়াকফ করেন। পরে শোলাকিয়া সাহেব বাড়ির দান করা জমিসহ আরও কিছু জমি যুক্ত হয়ে বর্তমানে প্রায় সাত একর জায়গাজুড়ে ঈদগাহটির অবস্থান।
অন্যদিকে, কিশোরগঞ্জ শহরের সরযূবালা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নারীদের ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৮টায়।