✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-২৬, | ১৪:০২:২৫ |মহাকাশে নক্ষত্র কীভাবে জন্ম নেয় এবং সময়ের সঙ্গে কীভাবে পরিবর্তিত হয়—এ নিয়ে নতুন তথ্য পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। নাসার জেমস ওয়েব ও হাবল মহাকাশ দূরবীক্ষণ যন্ত্রের যৌথ পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বড় আকারের নক্ষত্রগুচ্ছ ছোটগুলোর তুলনায় অনেক দ্রুত নিজেদের চারপাশের গ্যাসমেঘ সরিয়ে ফেলতে পারে। গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে গ্রহ তৈরির প্রক্রিয়াও ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করবে।
নাসা জানিয়েছে, গবেষকেরা কাছাকাছি থাকা চারটি গ্যালাক্সির হাজার হাজার তরুণ নক্ষত্রগুচ্ছ পর্যবেক্ষণ করেছেন। এতে দেখা যায়, বিশাল নক্ষত্রগুচ্ছ যে গ্যাসমেঘের ভেতরে জন্ম নেয়, সেখান থেকে তারা তুলনামূলক দ্রুত বের হয়ে আসে।
সাধারণভাবে মহাকাশে বড় গ্যাসমেঘ মহাকর্ষের চাপে সংকুচিত হয়ে নক্ষত্র তৈরি করে। পরে শক্তিশালী নাক্ষত্রিক বাতাস, অতিবেগুনি বিকিরণ এবং সুপারনোভা বিস্ফোরণ আশপাশের গ্যাস সরিয়ে দেয়। এর ফলে ওই অঞ্চলে নতুন নক্ষত্র তৈরির প্রক্রিয়া থেমে যায়। বিজ্ঞানীরা এই প্রক্রিয়াকে “নাক্ষত্রিক প্রতিক্রিয়া” বলে থাকেন।
গবেষণায় প্রায় ৯ হাজার নক্ষত্রগুচ্ছ শনাক্ত করা হয়েছে। কিছু গুচ্ছ তখনও গ্যাসমেঘের আড়ালে ছিল, আবার কিছু পুরোপুরি দৃশ্যমান হয়ে উঠেছিল। জেমস ওয়েবের অবলোহিত পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তি ঘন গ্যাসমেঘের ভেতর দেখার সুযোগ দেয়। এর মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা প্রতিটি গুচ্ছের বয়স ও ভর নির্ধারণ করেছেন।
নেচার অ্যাস্ট্রোনমি সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, বড় নক্ষত্রগুচ্ছ প্রায় ৫০ লাখ বছরের মধ্যে চারপাশের গ্যাস সরিয়ে ফেলে। ছোট গুচ্ছগুলোর ক্ষেত্রে সময় লাগে ৭০ থেকে ৮০ লাখ বছর।
সুইডেনের স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক অ্যাঞ্জেলা আদামো বলেন, নক্ষত্রের জন্ম ও বিকাশ নিয়ে আগের গণনাভিত্তিক মডেলগুলো বাস্তব চিত্র পুরোপুরি ব্যাখ্যা করতে পারেনি। নতুন এই তথ্য ভবিষ্যৎ গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি দেবে।
গবেষকদের মতে, গ্যাস দ্রুত সরে গেলে তরুণ নক্ষত্রের চারপাশের গ্রহ তৈরির চাকতি (গ্যাস ও ধুলার স্তর) তীব্র অতিবেগুনি বিকিরণের মুখে পড়ে। এতে গ্রহ গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান জমার সুযোগ কমে যেতে পারে। বিজ্ঞানীদের আশা, এই পর্যবেক্ষণ ভবিষ্যতে নক্ষত্র ও গ্রহের বিকাশ সম্পর্কে আরও নির্ভুল ধারণা দেবে।