✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-২৬, | ১৪:০১:৩৬ |জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব শুধু আবহাওয়া বা সমুদ্রপৃষ্ঠে সীমাবদ্ধ নয়, তা এখন পৃথিবীর ঘূর্ণনের গতিতেও প্রভাব ফেলছে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, মেরু অঞ্চলের বরফ দ্রুত গলে যাওয়ায় পৃথিবীর দিন ধীরে ধীরে দীর্ঘ হচ্ছে। বিজ্ঞানীদের মতে, পরিবর্তনটি খুবই ক্ষুদ্র হলেও এর পেছনের শক্তি ও প্রভাব অত্যন্ত বড়।
গবেষণাটি জানিয়েছে, গত ৩৬ লাখ বছরের ভূতাত্ত্বিক ইতিহাসে পৃথিবীর ঘূর্ণন ধীর হওয়ার বর্তমান গতি নজিরবিহীন। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমবাহ ও মেরুর বরফ গলে সমুদ্রে মিশছে। পরে সেই পানি পৃথিবীর বিষুবরেখার দিকে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে পৃথিবীর ভরের অবস্থান বদলে গিয়ে ঘূর্ণনের গতি কমে যাচ্ছে।
গবেষকেরা বিষয়টি বোঝাতে ঘূর্ণায়মান বরফ নৃত্যশিল্পীর উদাহরণ দিয়েছেন। একজন নৃত্যশিল্পী হাত ছড়িয়ে দিলে যেমন ঘূর্ণনের গতি কমে যায়, পৃথিবীর ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রভাব তৈরি হচ্ছে।
অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয় ও সুইজারল্যান্ডের ইটিএইচ জুরিখের বিজ্ঞানীরা প্রাচীন সামুদ্রিক অণুজীবের জীবাশ্ম পরীক্ষা করে এই তথ্য পেয়েছেন। সমুদ্রতলের ক্ষুদ্র প্রাণী ‘বেনথিক ফোরামিনিফেরা’র খোলসে অতীতের সমুদ্রপৃষ্ঠের পরিবর্তনের রাসায়নিক তথ্য সংরক্ষিত ছিল। সেগুলো বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর ঘূর্ণনের পুরোনো পরিবর্তন সম্পর্কে ধারণা নেন।
গবেষণায় বিশেষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক পদ্ধতিও ব্যবহার করা হয়েছে। এতে প্রায় ৩৬ লাখ বছর আগের তথ্য বিশ্লেষণ সম্ভব হয়েছে।
বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি একশ বছরে দিনের দৈর্ঘ্য প্রায় ১ দশমিক ৩৩ মিলিসেকেন্ড বাড়ছে। সংখ্যাটি ছোট মনে হলেও এর পেছনে বিশাল ভর কাজ করছে। গবেষক বেনেডিক্ট সোয়া বলেন, এ পরিবর্তনের জন্য প্রায় এক হাজার গিগাটন বরফ মেরু অঞ্চল থেকে সমুদ্রে সরেছে।
গবেষণার প্রধান লেখক মোস্তফা কিয়ানি শাহভান্দি বলেন, পৃথিবীর ঘূর্ণনশক্তির এই পরিবর্তন শক্তির দিক থেকে ৯ মাত্রার ভূমিকম্পের সমান। তবে এটি ধ্বংসের নয়, বরং গ্রহব্যাপী শক্তির পরিবর্তনের তুলনা।
গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ও গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ বর্তমান হারে চলতে থাকলে শতাব্দীর শেষে জলবায়ু পরিবর্তনই পৃথিবীর দিনের দৈর্ঘ্য বদলের প্রধান কারণ হয়ে উঠতে পারে।