✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-২৫, | ১৮:৩৯:৫৪ |ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এ বছর লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া এবং ঝড়-বৃষ্টি কম হওয়ায় উৎপাদন ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছেন চাষিরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৫৫৫ হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ হয়েছে। উৎপাদিত লিচুর সম্ভাব্য বাজারমূল্য ধরা হচ্ছে প্রায় ২৯ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ বছর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সীমান্তবর্তী কসবা, আখাউড়া ও বিজয়নগর উপজেলার পাহাড়ি জমিতে ব্যাপকভাবে লিচুর চাষ হয়। আখাউড়া উপজেলার ধলেশ্বর, রাজাপুর, আমোদাবাদ, মোগড়া ও মনিয়ন্দ এলাকায় এবং কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর ও বায়েক ইউনিয়নে রয়েছে কয়েকশ লিচুর বাগান। তবে সবচেয়ে বেশি বাগান রয়েছে বিজয়নগর উপজেলায়।
বিজয়নগরের পাহাড়পুর, বিষ্ণুপুর, কাঞ্চনপুর, খাটিঙ্গা, কাশিমপুর, সিঙ্গারবিল, চম্পকনগর, কালাছড়া, মেরাশানী, কামাল মোড়া, নূরপুর, হরষপুর, ধোরানাল, মুকুন্দপুর, সেজামুড়া, নোয়াগাঁও, অলিপুর, চান্দপুর, কাশিনগর, ছতুরপুর, রূপা, শান্তামোড়া, কামালপুর, কচুয়ামোড়া ও ভিটি দাউদপুর এলাকাজুড়ে রয়েছে প্রায় পাঁচ শতাধিক লিচুর বাগান। লাভজনক হওয়ায় অনেক চাষি এখন ধানিজমিতেও লিচুর আবাদ করছেন।
বিজয়নগরের সবচেয়ে বড় লিচুর বাজার আউলিয়া বাজার ও মেরাশানী বাজার। এছাড়া মুকুন্দপুর, কাংকইরা বাজার, চম্পকনগর, সিঙ্গারবিল বাজার ও আমতলী বাজারসহ আরও কয়েকটি বাজারে পাইকারিভাবে লিচু বেচাকেনা হয়।
এসব বাজার থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, নরসিংদী, ভৈরব, নোয়াখালী, চাঁদপুর, মৌলভীবাজার, সিলেট, শ্রীমঙ্গল, হবিগঞ্জ, ফেনী ও রাজধানী ঢাকার ব্যবসায়ীরা ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে লিচু নিয়ে যান।
স্থানীয় চাষি ও এলাকাবাসী জানান, উপজেলার সবচেয়ে বড় লিচুর বাজার পাহাড়পুর ইউনিয়নের আউলিয়া বাজার। সেখানে প্রতিদিন প্রায় অর্ধকোটি টাকার লিচু বেচাকেনা হয়। গভীর রাতে চাষিরা তাদের উৎপাদিত লিচু বাজারে আনেন। রাত ৩টা থেকে শুরু হয়ে সকাল ৮টার মধ্যেই বেচাকেনা শেষ হয়ে যায়।
চাষিরা জানান, বিজয়নগরে পাটনাই, বোম্বাই, চায়না থ্রি ও এলাচি জাতের লিচু চাষ হয়। এলাচি ও চায়না থ্রি জাতের লিচু আকারে তুলনামূলক বড়।
কালাছড়া গ্রামের লিচুচাষি শফিকুল ইসলাম বলেন, আমার দুইটি বাগানে ৮০ থেকে ৯০টি লিচুগাছ আছে। গত ৫-৭ দিন ধরে আউলিয়া বাজারে লিচু বিক্রি করছি। ইতোমধ্যে প্রায় দুই লাখ টাকার লিচু বিক্রি করেছি।
একই এলাকার সোলেমান মিয়া, কাউছার মিয়া ও ফারুক ইসলামসহ আরও কয়েকজন চাষি জানান, তারা প্রত্যেকেই এ পর্যন্ত দুই লাখ টাকার বেশি লিচু বিক্রি করেছেন। ঈদের পর বাজার আরও ভালো হবে বলে আশা করছেন তারা। বাগানে থাকা লিচু দিয়ে আরও ২০ থেকে ২৫ দিন বিক্রি করা সম্ভব হবে বলেও জানান তারা।
জেলা শহরের পাইকার রমজান আলী বলেন, গত সাত দিন ধরে এই বাজারে আসছি। প্রতিদিন গড়ে প্রায় এক লাখ টাকার লিচু কিনছি। এখানকার লিচু ভালো ও মিষ্টি হওয়ায় বিক্রি করে লাভবান হচ্ছি।
হবিগঞ্জের মাধবপুর থেকে আসা পাইকার বেলাল মিয়া বলেন, প্রতিবছরই এখান থেকে লিচু সংগ্রহ করি। বিজয়নগরের লিচুর চাহিদা অনেক বেশি। নিজের পছন্দমতো লিচু কিনে নিয়ে যাচ্ছি, দামও হাতের নাগালে।
বিজয়নগর কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় প্রায় পাঁচ শতাধিক লিচুর বাগান রয়েছে। এসব বাগানে দেশি, এলাচি, চায়না, পাটনাই ও বোম্বাই জাতের লিচুর চাষ করা হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মুনসী তোফায়েল হোসেন বলেন, মাটির গুণাগুণ ভালো হওয়ায় চলতি বছর জেলায় ৫৫৫ হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ হয়েছে। এ বছর প্রায় ২৯ কোটি টাকার লিচু বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে। বিজয়নগর, কসবা ও আখাউড়ার পাহাড়ি টিলাভূমির লাল মাটিতে লিচুর উৎপাদন বেশি ভালো হয়। এ অঞ্চলে প্রতি বছরই লিচুর আবাদ বাড়ছে।