গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য

বায়ুদূষণের কারণে বাড়ছে কিডনি বিকল ও মৃত্যুর ঝুঁকি

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-২০, | ১৮:০৮:৫৯ |
কেবল ফুসফুস বা হৃদযন্ত্রই নয়, অনিয়ন্ত্রিত বায়ুদূষণের কারণে এবার মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ‘কিডনি’ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে। নতুন এক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘদিন দূষিত বাতাসের সংস্পর্শে থাকলে কিডনি বিকল, হাসপাতালে ভর্তি এবং কিডনিজনিত কারণে মৃত্যুর ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

ব্রাজিলের জনবহুল শহর সাও পাওলোতে ২০১১ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১০ বছর ধরে এই গবেষণাটি পরিচালিত হয়। প্রায় ৩৭ হাজার মানুষের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা বায়ুদূষণের সঙ্গে কিডনি রোগের এই সরাসরি যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন। 

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, বায়ুদূষণের কারণে সব বয়সী মানুষই কম-বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তবে বয়সভেদে এই ঝুঁকির তারতম্য রয়েছে: 

১৯ থেকে ৫০ বছর: এই বয়সি মানুষের ক্ষেত্রে দূষণের কারণে কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ার বিষয়টি স্পষ্ট লক্ষ্য করা গেছে।

৫১ থেকে ৭৫ বছর: মধ্যবয়সি ও প্রবীণদের ক্ষেত্রে এই বিপদ সবচেয়ে বেশি। তরুণদের তুলনায় এই বয়সিদের কিডনি বিকল বা রোগাক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি প্রায় আড়াই গুণ বেশি। 

এছাড়া নারীদের তুলনায় পুরুষদের ক্ষেত্রে বায়ুদূষণজনিত কিডনি জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তির হার বেশি দেখা গেছে। 

যেভাবে ক্ষতি করছে দূষিত বাতাস 
গবেষণা প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত অধ্যাপক লুসিয়া অ্যান্ড্রেড ব্যাখ্যা করেছেন যে, বাতাসের অতি সূক্ষ্ম ক্ষতিকারক কণা শ্বাসের মাধ্যমে প্রথমে আমাদের রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করে। পরবর্তীতে রক্ত ফিল্টার বা পরিশোধিত হওয়ার সময় এই বিষাক্ত কণাগুলো কিডনির টিস্যুতে জমতে শুরু করে।

মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তখন এই বহিরাগত কণাগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া দেখায়। এর ফলে কিডনিতে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ, ফাইব্রোসিস বা টিস্যু শক্ত হয়ে যাওয়া এবং কিডনি কোষের অকাল বার্ধক্য বা কার্যক্ষমতা লোপ পাওয়ার মতো ঘটনা ঘটে। 

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, কিডনি রোগকে ‘নীরব ঘাতক’ বলা যায়। কারণ অনেক রোগীই বুঝতে পারেন না যে তাদের কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যতক্ষণ না পর্যন্ত এটি চূড়ান্ত বা গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছায়। 

এই গবেষণার প্রধান লেখক ড. ইয়ারা দা সিলভা জানান, সাও পাওলোর গড় দূষণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিরাপদ সীমার চেয়ে তিন গুণ বেশি ছিল। 

তবে ভয়ের কথা হলো, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে যে বায়ুর মানকে ‘গ্রহণযোগ্য’ বা ‘স্বাভাবিক’ বলে মনে করা হয়, সেই মাত্রার দূষণেও মানুষের কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা লাগতে পারে। 

তাই সাধারণ মানুষকে এই নীরব ক্ষতি থেকে বাঁচাতে এবং বায়ুদূষণের কবল থেকে জনস্বাস্থ্য রক্ষা করতে অবিলম্বে আরও কঠোর পরিবেশগত নীতি ও স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়নের তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। 

সূত্র: সামা টিভি 

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..