✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-১৮, | ১৪:০০:০৩ |দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞানীরা মনে করে আসছেন, আমাদের ছায়াপথ আকাশগঙ্গার ঠিক মাঝখানে আছে একটি বিশাল ব্ল্যাকহোল। কিন্তু নতুন এক গবেষণা এই পুরোনো ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছে। গবেষণায় বলা হচ্ছে, আকাশগঙ্গার কেন্দ্রে ব্ল্যাকহোলের বদলে ঘন ডার্ক ম্যাটারের একটি কোর থাকতে পারে।
গবেষকদের মতে, এই ডার্ক ম্যাটারের ঘন অংশই গ্যালাক্সির কেন্দ্রের আশেপাশে থাকা নক্ষত্রগুলোর অস্বাভাবিক দ্রুত গতিতে ঘোরার কারণ হতে পারে। শুধু তাই নয়, পুরো আকাশগঙ্গা যেভাবে ঘোরে, সেটাও এই ডার্ক ম্যাটার কোর দিয়েই ব্যাখ্যা করা সম্ভব।
এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে বিখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী মান্থলি নোটিসেস অব দ্য রয়্যাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি-তে। গবেষণায় বলা হয়, খুব ছোট কিন্তু অত্যন্ত ঘন একটি ডার্ক ম্যাটার কোর গ্যালাক্সির কেন্দ্রের নক্ষত্রগুলোর দ্রুত ঘূর্ণন এবং পুরো গ্যালাক্সির চলাচল—দুটোই ব্যাখ্যা করতে পারে।
এতদিন বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করতেন, আকাশগঙ্গার কেন্দ্রে থাকা স্যাজিটেরিয়াস এ নামের বস্তুটি সূর্যের তুলনায় প্রায় ৪০ লাখ গুণ ভারী একটি ব্ল্যাকহোল। এর চারপাশে থাকা ‘এস-স্টার’ নামের কিছু নক্ষত্র খুব দ্রুত বেগে ঘোরে। এই কারণেই বিজ্ঞানীরা ব্ল্যাকহোলের ধারণায় পৌঁছেছিলেন।
কিন্তু এবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গবেষকদের একটি দল ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে। তারা বলছেন, ফার্মিওনিক ডার্ক ম্যাটার দিয়ে তৈরি একটি বিশেষ মডেল আছে, যা ব্ল্যাকহোল ছাড়াই এই সব নক্ষত্রের দ্রুত গতির ব্যাখ্যা দিতে পারে।
এই গবেষণার সহ-লেখক ড. কার্লোস আরগুয়েলেস বলেন, এই প্রথম এমন একটি ডার্ক ম্যাটারের মডেল পাওয়া গেল, যা একই সঙ্গে গ্যালাক্সির বড় আকারের ঘূর্ণন এবং কেন্দ্রের কাছের নক্ষত্রগুলোর গতি—দুটোই ব্যাখ্যা করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এটি শুধু ব্ল্যাকহোলের বিকল্প ব্যাখ্যাই নয়। বরং এতে বোঝা যায়, গ্যালাক্সির কেন্দ্র এবং চারপাশে থাকা ডার্ক ম্যাটারের স্তর সম্ভবত একই পদার্থের ভিন্ন রূপ।
গবেষকদের মতে, ফার্মিয়ন কণা দিয়ে তৈরি ডার্ক ম্যাটার একত্রিত হয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্রে একটি খুব ঘন অংশ তৈরি করতে পারে। এই অংশের চারপাশে থাকবে আরও বড় আকারের ডার্ক ম্যাটার হ্যালো। এই ঘন কেন্দ্রের মহাকর্ষ শক্তি এত বেশি হতে পারে যে এটি অনেকটা ব্ল্যাকহোলের মতোই কাজ করবে। এতে কাছের নক্ষত্রগুলোর কক্ষপথ বদলে যাবে এবং আলোও বাঁকিয়ে যাবে।
গবেষণার প্রধান লেখক ভ্যালেন্তিনা ক্রেসপি বলেন, এই ডার্ক ম্যাটার কোর এত শক্তভাবে আলো বাঁকাতে পারে যে মাঝখানে একটি অন্ধকার অংশ দেখা যায় এবং তার চারপাশে একটি উজ্জ্বল বলয়ের মতো চিত্র তৈরি হয়। এই দৃশ্যটি ২০২২ সালে ইভেন্ট হরাইজন টেলিস্কোপ যে ছবি তুলেছিল, তার সঙ্গে মিল পাওয়া যায়।
যদি এই গবেষণার ধারণা সঠিক প্রমাণিত হয়, তাহলে গ্যালাক্সি তৈরি ও গঠনের বিষয়ে বর্তমান অনেক ধারণাই বদলে যেতে পারে। তখন বিজ্ঞানীরা ভাবতে পারবেন, আকাশগঙ্গার কেন্দ্র থেকে একেবারে প্রান্ত পর্যন্ত একটি টানা ডার্ক ম্যাটারের কাঠামো থাকতে পারে।