✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-১৫, | ১৮:২৬:৩২ |কলকাতার আলোচিত আরজিকর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসক ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় বড় পদক্ষেপ নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। তদন্তে গাফিলতি ও এফআইআর দাখিলে বিলম্বের অভিযোগে তিন শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করা হয়েছে।
সাসপেন্ড হওয়া কর্মকর্তারা হলেন- কলকাতার তৎকালীন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল, তৎকালীন ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (মধ্য) ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (উত্তর) অভিষেক গুপ্তা।
শুক্রবার নবান্নে এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরুর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নিহত চিকিৎসকের পরিবারকে অর্থ দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি জানান, মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবের কাছ থেকে রিপোর্ট পেয়েছি। নির্যাতিতার মাকে টাকা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর।
তিনি আরও বলেন, বিভাগীয় তদন্তে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বক্তব্য নেওয়া হবে। প্রয়োজনে নির্যাতিতার পরিবারের কাছ থেকেও সরাসরি বক্তব্য সংগ্রহ করা হবে। সেই সময়ের ফোন কল রেকর্ড, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তও খতিয়ে দেখা হবে। তৎকালীন প্রশাসনের উচ্চপর্যায় থেকে কোনো নির্দেশ ছিল কি না, সেটিও তদন্তে যাচাই করা হবে বলে জানান তিনি।
২০২৪ সালের ৯ আগস্ট কলকাতার আরজিকর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে কর্তব্যরত অবস্থায় এক তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। ‘অভয়া’ ছদ্মনামে পরিচিত ওই চিকিৎসকের মৃত্যুর ঘটনায় গোটা ভারতজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। ন্যায়বিচারের দাবিতে দেশজুড়ে আন্দোলন, মিছিল, প্রতিবাদ ও বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়।
ঘটনার পর সঞ্জয় রায় নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে কলকাতা পুলিশ। পরে তদন্তভার নেয় সিবিআই এবং তারাও সঞ্জয় রায়কেই দায়ী বলে উল্লেখ করে। তবে নিহত চিকিৎসকের মা রত্না দেবনাথ বরাবরই দাবি করে আসছেন, এ ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি জড়িত ছিলেন। তার অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-প্রমাণ নষ্ট করা হয়েছিল এবং সে সময়ের কয়েকজন শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তার ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ।
এদিকে নিহত চিকিৎসকের মা রত্না দেবনাথ, সিবিআই তদন্ত নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তার অভিযোগ, তদন্ত সঠিকভাবে পরিচালিত হয়নি। তিনি সাবেক মুখ্যমন্ত্রী, পুলিশমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য মন্ত্রীর বিরুদ্ধেও প্রশ্ন তুলেছেন।
গত বুধবার কলকাতা হাইকোর্টে সাবেক তৃণমূল নেতা রথীন ঘোষ, পানিহাটি পৌরসভার চেয়ারম্যান সোমনাথ দে এবং তৃণমূল নেতা সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়-কে গ্রেপ্তারের আবেদন জানিয়ে মামলা করেন তিনি। তার অভিযোগ, মেয়ের মরদেহ দ্রুত দাহ করার পেছনে এসব ব্যক্তির ভূমিকা ছিল।